Chinsura Court: ৩ বার কন্যা সন্তান, ৪ নম্বর মেয়ে হতেই খুন করে নাইলনের ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয় খালে, কঠিন শাস্তি দিল চুঁচুড়া আদালত
বৃহস্পতিবার হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান,পান্ডুয়া থানায় দম্পতির বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। মামলায় ১৭ জনের সাক্ষীর ভিত্তিতে চুঁচুড়ার তৃতীয় দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় অভিযুক্তদের ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন ও দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় ৬ মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

হুগলি: ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায় ঘুরে গিয়েছিল মামলার মোড়। তিনটি কন্যা সন্তানের পর চতুর্থটিও কন্যা সন্তান হওয়ায় শ্বাসরোধ করে খুন করে নাইলনের ব্যাগে ভরে খালে জলে ফেলে দিয়েছিলেন নিজের বাবা-মা। এরপর গ্রেফতার হয় দু’জন। সন্তান খুনের দায়ে ৬ বছর পর চুঁচুড়া আদালত মা-বাবা দু’জনকেই যাবজ্জীবন সাজা দিল।
২০২০ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত মানুসমারি গ্রামের বাড়িতেই পূর্ণিমা টুডুর চতুর্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, ওই দিনই স্বামী নারায়ণ টুডুকে সঙ্গে নিয়ে শ্বাস রোধ করে সদ্যোজাতকে খুন করেন তাঁরা। এবং বাড়ির কাছেই খালে ফেলে দেওয়া হয় সদ্যোজাতর দেহ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবেশী গণেশ মুর্মু অভিযোগ দায়ের করেন পান্ডুয়া থানায়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পান্ডুয়া থানার পুলিশ অফিসার বুদ্ধদেব সরকার ঘটনার তদন্ত নামেন। গতকাল চুঁচুড়া আদালত মা-বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
বৃহস্পতিবার হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানান,পান্ডুয়া থানায় দম্পতির বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। মামলায় ১৭ জনের সাক্ষীর ভিত্তিতে চুঁচুড়ার তৃতীয় দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় অভিযুক্তদের ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন ও দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় ৬ মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আইনজীবী এও বলেন, “মামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল সদ্যজাতের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও তার বাবা মা তাঁদের সন্তান বলে মানতে চায়নি। আদালতের নির্দেশে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সদ্যজাতর সঙ্গে তাঁর বাবা মায়ের ডিএনএ মিলে যায়।”
