SIR in Bengal: এসআইআর শুনানির আতঙ্ক? রিষড়ায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যুতে চাপানউতোর
SIR Fear: মৃতের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘকাল বড়বাজারের একটি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৮০ বছর ধরে তাঁরা রিষড়ার বাসিন্দা। গত ২৯শে ডিসেম্বর বিএলও (BLO)-র পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়িতে একটি শুনানির নোটিশ দিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকেই বাবার দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে।

রিষড়া: ডাক এসেছিল এসআইআরের শুনানিতে। ৪ জানুয়ারি ছিল শুনানির দিন। তার আগে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর রিষড়ায়। এদিন সকালে রিষড়ার মাতৃসদনে ভর্তি করা হয় ধনঞ্জয় চতুর্বেদীকে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের সদস্যরা বলছেন বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বাড়িতেই শয্যাশায়ী ছিলেন। এরইমধ্যে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেতেই দুশ্চিন্তা বাড়ে। সেই আতঙ্কেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
মৃতের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘকাল বড়বাজারের একটি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৮০ বছর ধরে তাঁরা রিষড়ার বাসিন্দা। গত ২৯শে ডিসেম্বর বিএলও (BLO)-র পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়িতে একটি শুনানির নোটিশ দিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকেই বাবার দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছেলের অভিযোগ, “বাবা সারাক্ষণ ভাবতেন এই বয়সে অসুস্থ শরীরে শুনানিতে কোথায় যাবেন, কী করে যাবেন? যদি নাম বাদ চলে যায় তবে কী হবে? এই দুশ্চিন্তাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।” আজ সকালে তাঁকে রিষড়া মাতৃসদনে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ৫ই জানুয়ারি রাজেন্দ্রবাবুর নিজেরও শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি।
বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, এই বয়সে এসেও একজন মানুষকে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। প্রশাসনের এই পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষ হয়রান হচ্ছেন।”
রিষড়ার বিজেপি কাউন্সিলর মনোজ সিং পরিবারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বৃদ্ধের বয়স হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়েছিল। নিজের মৃত বাবাকে নিয়ে রাজনীতি করছেন তাঁর ছেলে।”
