Migrant Workers death: কোথাও খুন, কোথাও গলা কাটা দেহ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এল বাংলার পরিযায়ীদের মৃত্যুর খবর
South 24 Pargana and Malda: মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম(২৯)। পরিবারের দাবি, বাড়ি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে। এলাকায় কোনও কাজ নেই। তাই পেটের টানে চেন্নাইতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন আলমগীর।নয় দিন আগে আরেকটি কাজের জন্য হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। কিন্তু তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই।

শুভতোষ ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু হালদারের রিপোর্ট
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদহ: কখনও চেন্নাই কখনও আবার হায়দরাবাদ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর। বুধবার প্রথম মৃত্যুর খবর আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। মৃতের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার অন্তর্গত রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়খালি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর ধরে অন্ধ-প্রদেশে জরি কারখানায় কাজ করতেন মঞ্জুর। কুড়ি দিন আগে বাড়ি থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর আবার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে অপরিচিত এক মোবাইল নম্বর থেকে ২৫ হাজার টাকা চেয়ে বাড়িতে ফোন আসে। অনলাইনে ছয় হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল। পুরো টাকা না পাওয়ার জন্য তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মনজুরকে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হত। কী কারণে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার।মৃতের আত্মীয় গিয়াসউদ্দিন লস্কর বলেন, “ও বাইরে কাজ করত। সেখান থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। বলেছিল ২৫ হাজার টাকা না দিলে মেরে ফেলবে। এখানের একটা ফোন থেকে ৬ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছিল।”
তবে শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনা নয়, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর আসছে মালদহ থেকেও। চেন্নাইতে মৃত্যু মালদহের পরিযায়ী শ্রমিকের। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁর। খুন করা হয়েছে অনুমান পরিবারের। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে এখন অথৈ জলে মৃতের স্ত্রী।
মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম(২৯)। পরিবারের দাবি, বাড়ি মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে। এলাকায় কোনও কাজ নেই। তাই পেটের টানে চেন্নাইতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন আলমগীর বলে পরিবারের দাবি। নয় দিন আগে আরেকটি কাজের জন্য হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন। কিন্তু তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই। পাওয়া যাচ্ছিল না ফোনেও। আশে পাশে থাকা তার সহকর্মীরা স্থানীয় থানাতেও জানান। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে হায়দরাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তার পরবর্তী স্টেশনের কাছাকাছি রেল লাইনের ধারে জঙ্গল থেকে আলমগীরের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে স্ত্রী থেকে শুরু করে পরিবারের লোকেরা। আলমগীরের উপর নির্ভর ছিল সমস্ত সংসার। ছোট ছোট দুই সন্তান রয়েছে। গভীর শোকের ছায়া পুরো পরিবারে।
