মালদহ: অভাবের সংসার। উপার্জনের তাগিদে পাড়ি দিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। ঈদে বাড়ি ফেরারও কথা ছিল। কিন্তু, তার আগেই সব শেষ। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। শোকের ছায়া মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটা সরকার পাড়ায়। এই গ্রামেই আদি বাড়ি রমজান আলির (৩৫)। কিন্তু, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাঞ্জাবে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন রমজান। সেখানে বাইকে ট্রলি লাগিয়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্লাস্টিক কুড়িয়ে এক জায়গায় জড়ো করে পরে সেগুলি বিক্রি করতেন। এই কাজ করতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল তাঁর।
সূত্রের খবর, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও কাজে বেরিয়েছিলেন ওই যুবক। কিন্তু, কে জানতো আর বাড়ি ফেরা হবে না তাঁর। পঞ্জাবের কারান্দি এলাকায় ফ্লাইওভারের উপরে আচমকা পিছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে তাঁকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। দেশের বাড়িতে খবর যেতেই শোকের ছায়া গোটা এলাকায়। এদিকে রমজানের দেহ কীভাবে ফেরানো হবে তা ভেবেই চিন্তায় পড়ছে পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে রমজানকে নিয়ে চার ভাই। রমজান ছিল বাড়ির সেজো ছেলে। কিন্তু, সকলেরই আর্থিক অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। এক ছটাক জমিও নেই। ব্যাঙ্ক থেকে ৫০ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন রমজান। সেখানে কাজ করে যে উপার্জন হবে তা দিয়ে ঋণ মেটানোর কথা ছিল।
দাদাকে হারিয়ে শোকে কাতর রমজান আলির ভাই সহরাফ আলি। তিনি বলছেন, “দাদা ঈদে ফিরবে বলেছিল। ফোনে জানিয়েছিল বাড়িতে আসার কথা। কিন্তু, তারমধ্যে এটা হয়ে গেল। আমাদের তো ওর দেহ আনার মতোও অর্থ নেই। কীভাবে ওখান থেকে দেহ নিয়ে আসব তা ভেবে পাচ্ছি না।”