Murshidabad Groom Detained: বিয়ের আসর থেকে বরকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
Murshidabad Child Marriage Stopped: এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দেন, "আমাদের সরকার কন্যাসন্তানদের সুরক্ষা, তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে শিশুবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে কোনও আপস করবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করব।"

মুর্শিদাবাদ: বর পৌঁছে গিয়েছে। পাত্রীপক্ষের বাড়িতে চরম ব্যস্ততা। আচমকা ছন্দপতন। বিয়েবাড়িতে পৌঁছে গেল পুলিশ। নাবালিকাকে বিয়ে করতে আসায় বিয়ের আসর থেকেই আটক করা হল বরকে। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেনিয়াগ্রাম এলাকার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বরের পাশাপাশি নাবালিকাকেও আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেনিয়াগ্রামে এক নাবালিকার সঙ্গে এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে বর বিয়ের আসরে হাজিরও হন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। এরপর নাবালিকার বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিয়ের আসর থেকেই বরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। নাবালিকার বিয়ে রুখতে পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, নাবালিকা বিবাহের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নাবালিকার বয়স, বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই বার্তার পর নাবালিকার বিয়ে রুখতে প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকা বিবাহ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদে দুই নাবালিকার বিয়ে আটকানোয় পুলিশের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রী-
গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদে দুই নাবালিকার বিয়ে রুখতে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং সিডিপিও-র দ্রুত ও সক্রিয় পদক্ষেপের প্রশংসা করছি। তাঁদের তৎপরতায় ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর পরপর দুটি শিশুবিবাহ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, “৯ সেপ্টেম্বর গাজিনগরের ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়, যাতে বেআইনি শিশুবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা যায়। এই ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। কাজি-সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কিশোরীর বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে কিশোরীকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে হাজির করা হয়েছে।”
আর গতকাল অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে আরও একটি শিশুবিবাহ রুখে দেয়। এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এর ফলে আরও এক নাবালিকার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়েছে। তাকেও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।”
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, “আমাদের সরকার কন্যাসন্তানদের সুরক্ষা, তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে শিশুবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে কোনও আপস করবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করব।”
