Kunal Ghosh: ‘আপনি কতগুলো হতাশ মায়ের নাম বলুন’, হাজিরা দিতেই কুণাল ঘোষকে আর কী কী প্রশ্ন পুলিশের?
Kunal Ghosh FIR: NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পোস্টের মধ্য দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবার অপমান করছেন কুণাল। এরপর বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তারপরই বেলেঘাটার বিধায়ককে সশরীরে হাজিরা দিতে বলে থানা।

কলকাতা: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয় কুণাল ঘোষের নামে। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তলবও হয়। বৃহস্পতিবার সকালে থানায় হাজিরা দেওয়ার আগেই একটা কৌতুকপূর্ণ ছবি পোস্ট করেন কুণাল। পোস্ট করেই থানায় হাজিরা। থানায় তো গেলেন, সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন দুটি অভিধানও। কারণ তাঁকে তো তাঁর ব্যবহৃত শব্দের আক্ষরিক অর্থও বোঝাতে হবে পুলিশকে।
কিন্তু পুলিশও চলে ডালে ডালে। সূত্রের খবর, পুলিশের জেরায় বেকায়দায় পড়তে হল কুণাল ঘোষকে। হতাশ মা কে ?আপনি কাকে ‘মিন’ করেছেন? ঘোঁত ঘোঁত কে করে? আপনি কতগুলো হতাশ মায়ের নাম বলুন… সকালের পোস্ট সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, ছবিটা কি আপনি নিজে বানিয়েছেন নাকি ডাউনলোড করেছেন? এরকম একগুচ্ছ প্রশ্ন করা হয় কুণালকে। পুলিশ সূত্রের খবর, কোন প্রশ্নের উত্তরই সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কুণাল ঘোষ।
প্রায় ১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসেন কুণাল। সঙ্গে তাঁর অভিধান। বললেন, “এই ধরনের নোটিস আমার ফেলে রাখতে অস্বস্তি লাগে। আমি তো কারোর নাম লিখিনি। কাল্পনিক রূপক দিয়েছিলাম। আমি তো কারোর নাম লিখিনি, কেউ যদি আগ বাড়িয়ে এসে বলে, তাহলে আমার কী বলার আছে। আমি তো অভিধানে ব্যবহৃত শব্দই সব ব্যবহার করেছি।”
উল্লেখ্য, NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের পোস্টের মধ্য দিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবার অপমান করছেন কুণাল। এরপর বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তারপরই বেলেঘাটার বিধায়ককে সশরীরে হাজিরা দিতে বলে থানা।
থানায় হাজিরা দেওয়ার আগে কুণাল লেখেন, “বারাসাত থানায় আমার বিরুদ্ধে FIR হয়েছে। পুলিশ নোটিস পাঠিয়েছে। সাত দিনের মধ্যে হাজির হতে বলেছে। আমার আবার এসব ফেলে রাখতে বিরক্তিকর লাগে। তাই কিছু কাজ রদবদল করে আজই যাচ্ছি। ঠিক কী অভিযোগ, জানি না। শুনেছি দলবদলু বেইমান গদ্দার বিশ্বাসঘাতক শিবিরকে আক্রমণ করেছি বলে তাদের কেউ নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমার নামে নালিশ করেছে। তার জেরেই তলব। বিজেপির বি টিমের নাকিকান্নায় বিজেপি তাদের হয়ে লাঠিয়াল নামিয়ে আমাকে শাসাতে ডেকেছে। আসলে ঠিক কী, সেটা গিয়ে বুঝতে পারব। পুলিশ যা নির্দেশ পেয়েছে, তাদের কাজ করছে। আমি আমার কাজ করব। তবে, আমোদ পেলাম।” এই পোস্টের ভিত্তিতেও জবাব দিতে হয় তাঁকে।
