Bengal BJP: জঙ্গলমহলে তৈরি হচ্ছে নয়া সমীকরণ, মাটি হালকা হচ্ছে তৃণমূলের?
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় এই যোগদান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগে এই ধরনের বড়সড় দলবদল তৃণমূলের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এখন দেখার, অভিষেকের সভা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

বেলপাহাড়ি: জঙ্গলমহলে শক্তি বাড়াচ্ছে বিজেপি। উন্নয়নের লক্ষ্য়ে জঙ্গলমহলের দুটি গ্রামের ফুল বদল ৩০০র বেশি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জঙ্গলমহলেই গত কয়েক বছরে পায়ের তলার ভিত শক্ত করেছিল তৃণমূল। ১৯৯২ সালের ১২ জানুয়ারি জঙ্গলমহলের এই গ্রামেই প্রথম পা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলের অধিবাসীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্য বাসীকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালা বদল ঘটেছিল মা মাটি মানুষের সরকারের। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ জানিয়েছিলেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। ২০২৬ সালে হঠাৎই তাল কাটে।
যে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করেছিলেন এবার সেই উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই শাসক শিবির ছাড়লেন ৩০০র বেশি পরিবার থেকে প্রায় ১০০০ কর্মী সমর্থক। জোড়াম গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় কাজ নেই বনজ সম্পদ আহরণ করেই সংসার চলে তাঁদের। এছাড়াও গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা কোনও কিছুই নেই। বেশ কয়েকটি পানীয় জলের নলকূপ থাকলেও সেগুলি বিকল, তাদের ভরসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপ।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের মাটিতে প্রচারে আসার আগেই বড় ধাক্কা তৃণমূলের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ির জোড়াম ও জামতলগোড়া গ্রামের ৩০০ টির বেশি পরিবার থেকে প্রায় ১০০০ তৃণমূল কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিলেন। দলবদলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় এই যোগদান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগে এই ধরনের বড়সড় দলবদল তৃণমূলের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এখন দেখার, অভিষেকের সভা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
যোগদানকারী মহিলা বলেন, “আমাদের স্কুলে কোনও ম্যাডাম নেই। কোনও সুযোগ সুবিধা পাইনি। জল রাস্তাঘাট নেই। পুকুর নেই। পানীয় জল নেই। আসলে উন্নয়ন কিছুই হয়নি তাই যোগদান করলাম।” রাজীব মাহাত বলেন, “এখনও অনেক বাকি। তৃণমূলের ভাঙন এই শুরু। এই গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে প্রথম জঙ্গলমহলে এই গ্রামে এসেছিলেন। তাই এখান থেকেই শুরু ভাঙনের।” জেলা সিপিআইএমের তরফে জানানো হয়েছে দুই দলের গোডাউন এক শো রুম আলাদা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘জঙ্গলমহল’ (ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া) সবসময়ই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঞ্চল। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই অঞ্চলে নিজেদের শক্ত ভিত বজায় রাখা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপির উত্থান তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। এরপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠনে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। জঙ্গলমহলে লড়াই মূলত দ্বিমুখী। বিজেপি আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ নিজেদের দিকে টানতে সমর্থ হয়েছিল, যা তৃণমূলের জন্য চিন্তার কারণ। অন্যদিকে, কিছু পকেটে বামেদের ভোট ফেরানোর চেষ্টাও লক্ষ্যণীয়।
