SIR: হিয়ারিংয়ে ‘গন্ধমাদন পর্বত’ তুলে নিয়ে চলে এলেন সইফুদ্দিন! চক্ষু চড়কগাছ কমিশনের আধিকারিকদের
SIR In WB: রবিবার এসআইআর শুনানিতে নিজের ও সাত ছেলেমেয়ের নথি যাচাইয়ের ডাক পেয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব শেখ সইফুদ্দিন। যে কোনও শুনানি কেন্দ্রের চেনা ছবি, সবাই বগলদাবা করে ফাইল নিয়ে আসছেন। কিন্তু এখানে একেবারে ব্যতিক্রমী ছবি। সইফুদ্দিন সাহেব হাঁটলেন উল্টো পথে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ঘরের যাবতীয় নথিপত্র ভরা বিশালাকার ট্রাঙ্কটিই সটান হাজির করলেন পঞ্চায়েত অফিসে।

পূর্ব মেদিনীপুর: রামায়ণে বর্ণিত লক্ষ্মণের প্রাণ বাঁচাতে হনুমান গন্ধমাদন পর্ব হিমালয় থেকে কাঁধে করে লঙ্কায় নিয়ে এসেছিলেন। আর শেখ সইফুদ্দিন এসআইআর-এর শুনানিতে কেন্দ্রে কাঁধে তুলে আনলেন একটা আস্ত ট্রাঙ্ক! সাত ছেলের ডাক পড়েছে। অনেক নথি! নথি খুঁজতে কালঘাম ছুটছে, তাই নথি যেখানে সযত্নে রেখেছিলেন, সেই গোটা ট্রাঙ্ক মাথায় তুলে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন তিনি। ঘটনাটি নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কেন্দ্যামারী জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৩০ নম্বর বুথে।
রবিবার এসআইআর শুনানিতে নিজের ও সাত ছেলেমেয়ের নথি যাচাইয়ের ডাক পেয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব শেখ সইফুদ্দিন। যে কোনও শুনানি কেন্দ্রের চেনা ছবি, সবাই বগলদাবা করে ফাইল নিয়ে আসছেন। কিন্তু এখানে একেবারে ব্যতিক্রমী ছবি। সইফুদ্দিন সাহেব হাঁটলেন উল্টো পথে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ঘরের যাবতীয় নথিপত্র ভরা বিশালাকার ট্রাঙ্কটিই সটান হাজির করলেন পঞ্চায়েত অফিসে।
পঞ্চায়েত কর্মীরা যখন শুনানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন ট্রাঙ্ক মাথায় সইফুদ্দিনের ‘এন্ট্রি’, তা দেখে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ! যেন একবিংশ শতাব্দীর হনুমান! যিনি পর্বতের বদলে নথির পাহাড় নিয়ে হাজির হয়েছেন। কর্মীরা বলছেন, “নথি হারানোর ভয় নেই বটে, কিন্তু এই নিষ্ঠা সত্যিই বিরল!” নন্দীগ্রামের এই ‘ট্রাঙ্ক-পুরাণ’ এখন এলাকার মুখে মুখে।
এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রামের ১ নম্বর কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নন্দীগ্রামের বৈধ ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই লোকে এখন বাক্স মাথায় নিয়ে আসছে। সব নথি নিয়ে চলে আসছে।”
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, “আসলে তৃণমূল এসব ভাইরাল করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এইভাবে সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমে টিকে থাকতে চাইছে। ট্যাঙ্ক মাথায় করে নিয়ে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। যদি ভারতীয় নাগরিক হন, যে নথি চাইছে, সেটা নিয়ে আসলেই হবে।”
