Assembly Election 2026: বাগানে নয়, দেওয়ালে ফুল ফোটাতে জোর টক্করে শাসক-বিরোধী! তৃণমূল পুরপ্রধানের বাড়ির দেওয়ালে ফুটল পদ্ম
West Bengal Assembly Election 2026: সাঁইথিয়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির অভিযোগ, ভোটের জন্য তারা যে দেওয়াল বুকিং করেছে সেটা জবর-দখল করছে তৃণমূল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে হাজির হয়েছে থানায়। পুলিশ আসতেই দুপক্ষের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি। একই ছবি দেখা গেল মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রেও।

বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ: ভোট আসছে। বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে সাদা রঙের প্রলেপ দিয়ে বুকিং হচ্ছে। আমার-আপনার বাড়ির দেওয়ালে পড়বে রাজনীতির ছোঁয়া। ভোটের ফুল ফোটার আগেই দেওয়ালে ফুল ফোটানোর তুমুল লড়াই শুরু। এলাকায় এলাকায় দেওয়াল দখল কাজ শুরু করেছে তৃণমূল, বিজেপি। পাড়ার দেওয়ালে কোন ফুল ফুটবে, তাই নিয়েই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে লড়াই। ‘কাস্তে-হাতে’ মাঠে নেমে পড়েছে বাম কংগ্রেসও। এরইমধ্যে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় দেখা গেল দেওয়ালে দঙ্গল।
সাঁইথিয়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির অভিযোগ, ভোটের জন্য তারা যে দেওয়াল বুকিং করেছে সেটা জবর-দখল করছে তৃণমূল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে হাজির হয়েছে থানায়। পুলিশ আসতেই দুপক্ষের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলছেন, ওরা যদি এতই উন্নয়ন করেছে তাহলে এই ওয়ার্ডে হারে কেন? ওরা যতই ক্ষমতা দেখাক বিজেপি ক্ষমতায় আসবেই। পাল্টা তৃণমূলের হয়ে ব্যাটন ধরেছেন এই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের সভাপতি অর্ণব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, ভোটের আগে টিআরপি বাড়ানোর জন্য জোর করে এসব অশান্তি করা হচ্ছে। আমরা উন্নয়ন নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ওদের কাছে উন্নয়নের কোনও কথা নেই।
দেওয়ালের দঙ্গল ডানা বেঁধে মুর্শিদাবাদেও। বিজেপির প্রতীক আঁকা দেওয়াল প্রকাশ্যে মুছে দিলেন মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর। তাঁর অভিযোগ, কোনও অনুমতি না নিয়ে বিজেপি তাঁর বাড়ির দেওয়াল দখল করেছে। একইসঙ্গে দখল হয়েছে আরও একাধিক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির দেওয়াল। পাল্টা বিজেপি নেতাদের দাবি তাঁরা অনুমতি নিয়েই দেওয়াল লিখেছেন। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলছেন, “উনি মোছার কে? দরকারে প্রশাসন মুছবে। নির্বাচন কমিশন মুছবে যদি আমরা অনুমতি না নিয়ে থাকি।” আসলে আসন দখলের আগে দেওয়াল দখল অনেক পুরনো রীতি। ভোটের উত্তাপের সঙ্গেই জেলায় জেলায় দেওয়ালে দঙ্গল যে আরও বাড়বে তা মনে হয় বলার অপেক্ষা রাখে না।
