চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়! বাংলার কোন কোন এলাকায় বেশি বিপদের আশঙ্কা? দিন নির্ধারিত করে সতর্কবার্তা

আমফানের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে 'ইয়াস' (Cyclone YAAS) এর আতঙ্কে প্রহর গুনছে সুন্দরবন (Sundorban)। একে কোভিডের আবহ, তার ওপর ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস- উৎকন্ঠার দিন গুনছে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas)।

চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়! বাংলার কোন কোন এলাকায় বেশি বিপদের আশঙ্কা? দিন নির্ধারিত করে সতর্কবার্তা
ফাইল চিত্র।

কলকাতা: আমফানের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে ‘ইয়াস’ (Cyclone YAAS) এর আতঙ্কে প্রহর গুনছে সুন্দরবন (Sundorban)। একে কোভিডের আবহ, তার ওপর ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস- উৎকন্ঠার দিন গুনছে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas)।

আমফানে বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়। নোনা জল ঢুকে নষ্ট হয়েছিল বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি। ভেঙে গিয়েছিল বাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে নিমেশে খোলা আকাশের তলায় ঠাঁই হয়েছিল অনেকের। এক বছর পার। আরও একটা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস। ‘ইয়াস’ আছড়ে পড়ার আগে আতঙ্কে বুক কাঁপছে সুন্দরবনের বাসিন্দাদের।

বাসিন্দারাই বলছেন, “এই তো সবে একটা মাথা গোজার ঠাঁই তৈরি করেছিলাম। আবার ঝড় আসছে। কী হবে জানি না।” আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে নবান্ন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কোমর বেঁধে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন বলছে, প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ তারিখ থেকে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এলাকায় চলছে মাইকিং।

দিন নির্ধারিত করে ‘ইয়াস’এর গতি

২২ মে আন্দামান সাগর লাগোয়া পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হবে।

২৩ মে থেকেই মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা।

২৪ মে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ‘ইয়াস’।

২৬ মে বাংলা-ওড়িশা উপকূলের কাছে ঝড় হতে পারে।

গোটা জেলায় ১১৫ টি সাইক্লোন সেন্টার খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে স্কুল বাড়িগুলিকেও। বাঁধের ওপর বসবাসকারীদের উচুঁ জায়গায় কিংবা সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্ক রয়েছে ফ্রেজারগঞ্জের উপকূলরক্ষী বাহিনীও।

এদিকে, আতঙ্কে দিন কাটছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাড়োয়া-সহ একাধিক এলাকা। রাজ্যকে সতর্কবার্তায় কেন্দ্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। ‘ইয়াস’-এর সম্ভাব্য অভিমুখ বাংলা-ওড়িশা উপকূল। ২৫ মে থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ। ২২ মে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় তা পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড়ে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালিতে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা, শঙ্করপুরের মতো সামুদ্রিক এলাকাগুলির ক্ষেত্রেও রয়েছে সতর্কবার্তা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বাংলাদেশ এবং ওড়িশা উপকূলেও।

আরও পড়ুন: পিএম কিসান নিধির টাকা বণ্টন বন্ধ রাখা হোক বাংলায়, মোদীকে চিঠি দিলীপের

ইতিমধ্যেই নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে আনা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে নবান্ন।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla