
ইসলামাবাদ: জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্য় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান দামের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। পাক সরকারের বিরোধিতা করে এবং ভারতের সমর্থনে পোস্টার দিচ্ছেন তাঁরা। বিক্ষোভের জেরে, গত ছয়দিন ধরে একটানা বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ হাট-বাজার এবং পরিবহন ব্যবস্থা। অবস্থা সামাল দিতে, সোমবার (১৩ মে), পাক শাসিত কাশ্মীরের জন্য ২৪০০ কোটি টাকার অনুদান অনুমোদন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। কিন্তু, তাতে লাভ হয়নি। মঙ্গলবার (১৪ মে), অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরাবাদে পাক আধা-সামরিক বাহিনীর গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের গোলার দাপটে, মৃত্যু হল তিন অসামরিক ব্যক্তির। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। এর আগে, সপ্তাহান্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্তার মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন ৯০ জনেরও বেশি।
পাক সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ২৪০০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণার পর, কোহালা এলাকা থেকে সরে যাচ্ছিল পাকিস্তানি রেঞ্জাররা। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে। পাক রেঞ্জারদের ১৯ গাড়ির কনভয় মুজফ্ফরাবাদের ‘শোরান দা নাক্কা’ গ্রামের কাছে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে কনভয় লক্ষ করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। পাক রেঞ্জাররাও কাঁদানে গ্যাসের গোলা এবং গুলি ছুড়ে সেই হামলার জবাব দেয়। মুজাফফরাবাদ-ব্রারকোট রোডের উপর দাঁড়িয়ে থাকা আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িগুলিতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়।
১০ মে থেকে অধিকৃত কাশ্মীরের রাস্তায় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হিংসাত্মক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। তাদের প্রধান দাবি ছিল, অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুৎ এবং গমের দামে ভর্তুকি দিতে হবে। বিক্ষোভ ধামাচাপা দিতে, রবিবার, বিদ্যুৎ এবং গমে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ২৪০০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ৪০ কেজি আটার বস্তার দাম ৩১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। ১০০, ৩০০ এবং ৩০০-র বেশি ইউনিটের জন্য বিদ্যুতের শুল্কও, ইউনিট প্রতি যথাক্রমে, ৩ টাকা, ৫ টাকা এবং ৬ টাকা করা হয়েছে।
পাক সরকারের এই সাহায্যের আশ্বাসের পরও, তারা বিক্ষোভের রাস্তা থেকে সরে আসতে নারাজ। পাকিস্তান সরকার তাদের সমস্ত দাবি পূরণ করেনি বলে দাবি করে, তারা ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, মুজাফ্ফরাবাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি আরও জানিয়েছেন, এদিন প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়ে পিছু হটেছিল পাক রেঞ্জাররা। কিন্তু এরপরই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রেঞ্জারদের একটি বড় দল ওই এলাকায় হানা দিয়েছিল। ওই কর্মীর মতে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ওই অঞ্চলের ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হেলিকপ্টারে করে দলে দলে পাক কমান্ডো আসছে মুজাফ্ফরাবাদে। এই অবস্থায় ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। নয়া দিল্লিতে পাক রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অধিকৃত কাশ্মীরের হিংসার ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য তারা অনুরোধ জানিয়েছে ভারত সরকারকে।