AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Afghanistan: নাচ করলেই প্রকাশ্যে চাবুক মারা হবে, তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে ফিরল দাসত্ব প্রথা

Afghanistan New Rule on Slavery: আফগানিস্তানের নতুন আইনে বিচার ব্যবস্থাতেই সামাজিক শ্রেণিবিভাজনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে সমাজ চারটি শ্রেণিতে বিভাজিত হবে। প্রথম- উলেমা বা মুল্লাহ অর্থাৎ ধর্মগুরু, দ্বিতীয়, আশরাফ বা উচ্চবিত্ত , তৃতীয়-মধ্যবিত্ত এবং চতুর্থ-নিম্নবিত্ত।

Afghanistan: নাচ করলেই প্রকাশ্যে চাবুক মারা হবে, তালিবান শাসনে আফগানিস্তানে ফিরল দাসত্ব প্রথা
ফাইল চিত্র।Image Credit: PTI
| Updated on: Jan 28, 2026 | 2:19 PM
Share

কাবুল: তালিবান রাজে নাগরিকদের অধিকার তলানিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী স্বাধীনতা ও অধিকার কার্যত সম্পূর্ণ রূপে হরণ করেছে তালিবান প্রশাসন। এবার তালিবান রাজে আবার ফিরল দাসত্ব প্রথা। তালিবানের সুপ্রিম নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সই করেছেন ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোডে, যার অধীনে শ্রেণি ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তালিবানি নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি।

২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে আফগানিস্তানে নতুন আইন চালু হয়েছে। সেই আইনে বিচার ব্যবস্থাতেই সামাজিক শ্রেণিবিভাজনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনের ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে সমাজ চারটি শ্রেণিতে বিভাজিত হবে। প্রথম- উলেমা বা মুল্লাহ অর্থাৎ ধর্মগুরু, দ্বিতীয়, আশরাফ বা উচ্চবিত্ত , তৃতীয়-মধ্যবিত্ত এবং চতুর্থ-নিম্নবিত্ত।

এই শ্রেণি বিভাজনে এবার অপরাধ কতটা গুরুতর, তার ভিত্তিতে শাস্তি হবে না। বরং সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ যদি কোনও ধর্মগুরু অপরাধ করেন, তবে তাকে শুধুমাত্র পরামর্শ দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হবে। যদি কোনও উচ্চবিত্ত অপরাধ করেন, তাহলে তাকে আদালতে ডাকা হবে এবং পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। মধ্যবিত্তরা ওই একই অপরাধ করলে তাদের জেল হবে। আর যদি নিম্নবিত্ত কেউ অপরাধ করেন, তাহলে তার জেল তো হবেই, পাশাপাশি শারীরিক অত্যাচারের মতো শাস্তিও দেওয়া হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, এই আইনে ধর্মগুরু ও উচ্চবিত্তদের অপরাধে খোলা ছুট দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নবিত্তদের সেই একই অপরাধে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এটাকে বিচার ব্যবস্থা বলা যায় না। এতে স্পষ্ট হয়েছে জাতি-বর্ণ বৈষম্য।

এখানেই শেষ নয়। তালিবানের নতুন কোডে বারবার করে ‘মুক্ত’ ও ‘দাস’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আইনে মুক্ত ব্যক্তি ও দাসদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিবানি শাসনে আফগানিস্তানে আবারও দাসত্ব প্রথা ফিরছে।

নতুন আইনে একাধিক অধিকারও হরণ করা হয়েছে। যেমন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী পাওয়া কিংবা নিশ্চুপ থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উল্টে স্বীকারোক্তি বা সাক্ষ্যের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে।

পাশাপাশি নাচ করা বা দুর্নীতির কোনও কাজে উপস্থিত থাকার জন্য শাস্তি হিসাবে প্রকাশ্যে চাবুক মারার বিধান আনা হয়েছে।