East India Company Bankrupt: পুনর্জন্মের পরেও বাঁচানো গেল না! ১৭০ বছর পর ফের বন্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
East India Company: একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিনে নেওয়া অনেকের নজরে প্রতিশোধ নেওয়ার সমান ছিল। যে কোম্পানি শাসন এককালে শোষণ করেছিল ভারতীয়। সেই কোম্পানির মালিক হলেন কোনও ভারতীয়, একটা বড় অংশের কাছে সত্যিই গর্বের। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ বাজারে বেশি দূর গড়াল না আধুনিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গাড়ির চাকা।

নয়াদিল্লি: ব্যবসা করতে এসে বাংলার মাটি থেকে প্রায় গোটা ভারতবর্ষে শাসন কায়েম করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। পরবর্তীতে তাঁদের সেই শাসনক্ষমতা নিজেদের জিম্মায় নিয়েছিল ব্রিটেনের রাজ পরিবার। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের চাপে পরের বছরেই ভারতের মাটি ছেড়ে চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। এরপরই ব্যবসায় পতন। আর এদিকে ভারতে শুরু হয় ব্রিটিশ রাজ। ব্রিটেনের রানি হয়ে ওঠেন এদেশের ‘পূজ্য দেবী’।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাহন এই পর্বের সমাপ্ত হয়েছিল। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা বন্ধ হয়েছিল ১৮৭৪ সালে। এই ঘটনার ঠিক ১৩৬ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে আবার নতুন করে কার্য পরিচালনা শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের নাগরিক সঞ্জীব মেহতা এই শত প্রাচীন সংস্থার স্বত্ব কিনে নেন। আবার শুরু করেন ব্যবসা। তবে ব্রিটিশকালের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুনর্জন্ম ঘটিয়ে বিলাসবহুল দ্রব্যের সংস্থা তৈরি করেন তিনি।
একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিনে নেওয়া অনেকের নজরে প্রতিশোধ নেওয়ার সমান ছিল। যে কোম্পানি শাসন এককালে শোষণ করেছিল ভারতীয়। সেই কোম্পানির মালিক হলেন কোনও ভারতীয়, একটা বড় অংশের কাছে সত্যিই গর্বের। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ বাজারে বেশি দূর গড়াল না আধুনিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গাড়ির চাকা।
সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থার ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাদের লন্ডনের একমাত্র শো-রুম, তাও ফাঁকা। নেই কর্মী, বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গোটা কোম্পানি হয়ে গিয়েছে দেউলিয়া। আধুনিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পেরেন্ট সংস্থা ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডের থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা অধিক বকেয়া পাওনা রয়েছে তাদের। যে ছাড়পত্র না-মেলায় বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে সেই শত-প্রাচীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
