
কিয়েভ: ১৪ দিনে পড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)। ইউক্রেনের একের পর এক শহর দখল হওয়ার পরই উদ্বেগ বেড়েছিল সে দেশে আটকে পড়া ভারতীয়(Indians)-দের নিয়ে। কেন্দ্র ও বিদেশ মন্ত্রকের উদ্যোগে শুরু করা হয়েছিল ‘অপারেশন গঙ্গা’ (Operation Ganga)। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকার্য শেষ দফায় পৌঁছে গিয়েছে, বাকি ছিল কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সুমি(Sumy)-তে আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধার। মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, মানবিক করিডরের মধ্যে দিয়ে রাশিয়া-বেলারুশ সীমান্ত ধরে সুমিতে আটকে থাকা সমস্ত ভারতীয়দের উদ্ধার করে বের করে আনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছিলেন ভারতীয়দের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার নিয়ে। এরপরই সুমি থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারের কথা জানানো হল।
সপ্তাহের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, সুমিতে প্রায় ৬০০-রও বেশি পড়ুয়া আটকে ছিল। রাশিয়ার সীমান্ত থেকে ৫০ কিমি দূরে থাকায়, গোলাবর্ষণের মাঝে তাঁদের পায়ে হেঁটে ফেরাও সম্ভব হচ্ছিল না। কেন্দ্রের কাছে পড়ুয়ারা সাহায্যের আর্জি জানালে, তাদের ধৈর্য্য ধরতে ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সাংবাদিকদের জানান, যে ৬৯৪ জন ভারতীয় পড়ুয়া ইউক্রেনের সুমিতে আটকে ছিল, তাদের উদ্ধার করে আনা হয়েছে। সুমি থেকে তারা পোলটোভার উদ্দেশে বাসে করে রওনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “গতকাল রাতেও আমি কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং জানতে পারি যে সুমিতে ৬৯৪ জন ভারতীয় আটকে রয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তারা সকলে বাসে করে পোলটোভার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে”। বিদেশমন্ত্রকের তরফেও টুইটে জানানো হয়েছে যে পোলটোভা থেকে পড়ুয়ারা ট্রেন উঠে পশ্চিম ইউক্রেনে পৌঁছবে, যা আপাতভাবে দেশের বাকি অংশের তুলনায় সুরক্ষিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাসের সামনে অপেক্ষারত পড়ুয়ারা।
সুমি ছাড়াও ইরপিনে আটকে থাকা ভারতীয়দের গ্রিন করিডরের মাধ্যমে উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। টুইটে ভারতীয় পড়ুয়াদের বাসযাত্রীর ভিডিয়ো পোস্ট করে বলা হয়েছে, “রাশিয়া ইউক্রেনে মানবিক করিডর তৈরির যে প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল, তার অধীনেই ভারতীয়দের উদ্ধার করে আনা হচ্ছে।”
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুমিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ সেনা। প্রতিদিনই গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে। মঙ্গলবারও আকাশপথে হামলায় দুই শিশু সহ কমপক্ষে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, সেখানেই ডাক্তারি পড়তে যাওয়া পড়ুয়ারা হস্টেলে আটকে পড়ে। শনিবার তাদের মজুত করা খাবার ও জল শেষ হয়ে যাওয়ার পরই তারা কেন্দ্রের উদ্দেশে ভিডিয়োবার্তা পোস্ট করে উদ্ধারের আবেদন জানায়।
ভারতীয়দের উদ্ধারকারী বাস।
পড়ুয়ারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাশিয়ার সীমান্তে যাওয়ার কথা বললেও, কেন্দ্রের তরফে তাদের নিরাপদ কোনও জায়গায় আশ্রয় নিতেই বলা হয়। অবশেষে গতকাল তাদের সুমি থেকে বের করে আনা হয়।