রাঁচী: বিধায়ক পদ খারিজ হতে পারে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের, এই জল্পনাতেই সরগরম ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি। এরইমধ্যে বিজেপির তরফে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নির্বাচনের দাবি করা হল। অন্যদিকে, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য আগামিকাল দল ও জোটসঙ্গীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। যাবতীয় সিদ্ধান্তই এখন আটকে রয়েছে রাজ্যপালের হাতে থাকা মুখবন্ধ একটি খামে। সূত্রের খবর, বিধায়ক পদ খারিজ করা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের কাছে যে আবেদন করা হয়েছিল, তার জবাবই রয়েছে ওই খামের ভিতরে। আজই রাজ্যপাল রমেশ বাইস বিধায়ক পদ খারিজের ঘোষণা করতে পারেন বলেই জল্পনা।
শাসক দল ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি মোর্চার তরফে সরকার ভাঙার কোনও ঝুঁকি নেই বলেই জানানো হলেও, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রাঁচীতে তাঁর বাসভবনে ইউপিএ মিটিংয়ের ডাক দেওয়া ঘিরে জল্পনা বেড়েছে। এই বিষয়ে ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের বিধায়ক পূর্ণিমা নীরজ সিং বলেন, “সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উথাল-পাতাল পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই কংগ্রেসের সমস্ত বিধায়কদের রাঁচীতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, রাজ ভবন সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যপাল রমেশ বাইসকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের কারণে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিধায়ক পদ যেন খারিজ করে দেওয়া হয়। তবে সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। এই বিষয়ে রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিগত দুই দিন ধরে আমি ব্যক্তিগত কারণে দিল্লির এইমসে ছিলাম। আমি রাজ ভবনে পৌঁছই, তারপরই বলতে পারব যে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা।”
অন্য়দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার জল্পনা শুরু হতেই ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি মোর্চার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২০২৪ সাল অবধি হেমন্ত সোরেনই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। মাঝপথে মুখ্যমন্ত্রী বদল করার কোনও প্রশ্নই নেই। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নিজেও গতকাল জানান যে, নির্বাচন কমিশন তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এই সংক্রান্ত কোনও খবরই তিনি জানেন না। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে একজন সাংসদ সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা ও হাতের পুতুলে পরিণত হওয়া কয়েকজম সাংবাদিকরা মিলে নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি করেছে। কারণ নাহলে নির্বাচন কমিশন সবসময় মুখ বন্ধ খামেই এই ধরনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত জানায়।”