ভোপাল: ধর্ষণে কি একজন মহিলা অভিযুক্ত হতে পারেন? বৃহস্পতিবার, এমনই প্রশ্ন উঠল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে। সেদিন বিচারপতি প্রমোদ আগরওয়াল ও বিচারপতি প্রশান্ত গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে চলছিল একটি ধর্ষণ মামলার শুনানি। সেই সময়ই ওঠে এই প্রশ্নটি।
ঘটনাটা ঠিক কী?
২০২২ সালের ২১ আগস্ট দায়ের হয় এই মামলা। নির্যাতিতা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক তার। তাই ঘনঘন বিয়ের আগেই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো এমনই একদিন সে গিয়েছিল তার হবু শ্বশুড়বাড়িতে। অভিযোগ, সেই সময়ই তরুণীকে ঘরবন্দি করে ধর্ষণ করেন তার হবু স্বামী। তারপর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে দেয় সে। নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, এই ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তের মাও দায়ি। তার প্ররোচনাতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে ছেলে।
এই ঘটনার পরেই সেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৩৭৬ ও ৩৭৬(২)-এর ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়। এছাড়াও, অভিযুক্তের মায়ের বিরুদ্ধেও নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ১০৯ ধারায় ধর্ষণে প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করে পুলিশ। বৃহস্পতিবারই উচ্চ আদালতে ছিল সেই মামলার শুনানি।
সেখানেই বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘মহিলারা ধর্ষণ করতে পারেন না ঠিকই। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে তারা ধর্ষণে প্ররোচনা দিতে সক্ষম। আইনের চোখে যে ব্যক্তি ধর্ষণে প্ররোচনা বা উৎসাহ দেয়, সে মূল অভিযুক্তের মতো সমানভাবে দোষী। যদি প্ররোচনার কারণেই এমন ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে থাকে, তবে নারী কিংবা পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনও ব্যক্তিই এর জন্য দায়ী ও শাস্তিযোগ্য।’