PM Narendra Modi : ‘দুই মিনিট অন্তর উড়বে বিমান’, মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, নয়ডা বিমানবন্দরে কী কী সুবিধা রয়েছে?
Noida Airport Inaugration : শনিবার বিমানবন্দর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। তাঁর উপস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "এই বিমানবন্দর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আমূল বদলে দেবে। এই বিমানবন্দরের ফলে নয়ডা, আগ্রা, মথুরা, আলিগড়, গাজিয়াবাদ, মেরঠ, এটাওয়া, বুলন্দশহর, ফরিদাবাদের মানুষরা উপকৃত হবেন।"

নয়াদিল্লি : নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জেওয়ারে এদিন বিমানবন্দরের প্রথম ফেজ়ের উদ্বোধন করেছেন তিনি। বিমানবন্দরের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দর গোটা বিশ্বের সঙ্গে উত্তর ভারতকে যুক্ত করবে। এটা এমন একটি বিমানবন্দর হতে চলেছে, যেখানে দুই মিনিট অন্তর ফ্লাইট ছাড়বে। একইসঙ্গে উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে বিশ্ব সংকটের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন তিনি।
শনিবার বিমানবন্দর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। তাঁর উপস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “এই বিমানবন্দর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আমূল বদলে দেবে। এই বিমানবন্দরের ফলে নয়ডা, আগ্রা, মথুরা, আলিগড়, গাজিয়াবাদ, মেরঠ, এটাওয়া, বুলন্দশহর, ফরিদাবাদের মানুষরা উপকৃত হবেন।”
নতুন বিমানবন্দর যুব সমাজের জন্যও এই বিমানবন্দর নতুন সুযোগ তৈরি করবে। মোদী বলেন, “এই বিমানবন্দর পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকে বিমান সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উড়ে যাবে এবং উন্নত উত্তরপ্রদেশের উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠবে।” রাজ্যের মানুষকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। বিকশিত উত্তরপ্রদেশ, বিকশিত ভারত উদ্যোগে জোর দিয়েছেন।
কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,”২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সময়ই নয়ডা বিমানবন্দর অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু, কংগ্রেস বছরের পর বছর তা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। প্রকল্পটি শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।” তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়েছে। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। দ্রুত নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আজ তার উদ্বোধন হচ্ছে।”
একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ” পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। নিশ্চিত করছি যাতে এই সংকটের বোঝা আমাদের কৃষকদের ওপর না পড়ে। সরকার এমন পদক্ষেপ করছে যাতে সাধারণ মানুষ জ্বালানির দামের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকে।”
কী কী সুবিধা থাকবে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
দিল্লি বিমানবন্দরের ভিড় ও যানজটের সমস্যায় জর্জরিত লক্ষ লক্ষ যাত্রী উপকৃত হবেন…
সহজ হবে কোটি কোটি যাত্রীর ভ্রমণ
প্রাথমিকভাবে এই বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ১.২ কোটি যাত্রী যাতায়াতে সক্ষম। প্রথম পর্যায়ে একটি রানওয়ে থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি ফ্লাইট ওঠানামা করবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প চারটি ধাপে সম্প্রসারিত হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ৭ কোটি যাত্রী পর্যন্ত করা হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি ১৫ কোটিরও বেশি যাত্রীর পরিষেবা দিতে সক্ষম হবে।
বিশ্বমানের পরিকাঠামো
প্রায় ৪,৭০০ হেক্টর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হতে ২০৪০-৫০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। পুরো প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়েই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার মধ্যে জমি অধিগ্রহণে খরচে ব্যয় হয়েছে ৪,৫৮৮ কোটি টাকা।
যাতায়াতে মিলবে বড় স্বস্তি
যাত্রীদের বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছনোর সমস্যার সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ একর জমিতে একটি আধুনিক ‘গ্রাউন্ড ট্রান্সপোর্ট সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে। এই বিমানবন্দর সরাসরি যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে, ন্যাশনাল হাইওয়ে-৪৪ (NH-44) এবং জেওয়ার-ফরিদাবাদ এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত। দিল্লি, আগ্রা ও এনসিআরের অন্যান্য শহর থেকে সহজে পৌঁছনোর জন্য বাস ও ট্যাক্সির সুবিধা থাকবে। ভবিষ্যতে এটি দিল্লি মেট্রো ও র্যাপিড রেল (RRTS)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে, ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
