Explained: ভারতে হাসিনা, ঢাকায় তারেক, নয়া খেলা নয়াদিল্লির!
Bangladesh Update: ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্য়ু খালেদা জিয়ার। হিসাব স্পষ্ট। উত্তরাধিকার সূত্রে তারেকের কাঁধে এবার বড় দায়িত্ব। যা সম্ভবত তিনি আগেই টের পেয়েছিলেন। তাই যে তারেক রহমান ১৭ বছর আগে বাংলাদেশ ছাড়ার সময় বলে গিয়েছিলেন, তিনি আর কখনওই রাজনীতি করবেন না, সেই তারেক রহমান দেশে ফিরতেই সরাসরি নামলেন রাজনীতিতেই।

তারেকের প্রত্য়াবর্তন
১৭ বছর পর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের। সঙ্গে এসেছেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা এবং কন্যা জাইমা রহমান। গত বৃহস্পতিবার, বড় দিনের দিন বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৩৯ মিন টে ঢাাক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেকের বিমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ-সহ একাধিক তাবড় তাবড় নেতা পৌঁছে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে।
সেখান থেকেই তারেক প্রথম খালি পায়ে নিজের দেশের মাটিকে স্পর্শ করলেন। তারপর সরসরি বাসে উঠে রওনা দিলেন ঢাকার পূর্বাচলে ৩০০ ফিটের দিকে। সেখানেই আয়োজন হয়ে গণসংবর্ধনা সভা।
তারেকের জীবনে আলো-আঁধারি
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্য়ু খালেদা জিয়ার। হিসাব স্পষ্ট। উত্তরাধিকার সূত্রে তারেকের কাঁধে এবার বড় দায়িত্ব। যা সম্ভবত তিনি আগেই টের পেয়েছিলেন। তাই যে তারেক রহমান ১৭ বছর আগে বাংলাদেশ ছাড়ার সময় বলে গিয়েছিলেন, তিনি আর কখনওই রাজনীতি করবেন না, সেই তারেক রহমান দেশে ফিরতেই সরাসরি নামলেন রাজনীতিতেই।
মায়ের মৃত্যুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
এই পর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনটি বলুন তো? খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর নয়াদিল্লি জানাল, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে যেতে চলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি গেলেনও, তবে খালি হাতে নয়। খালেদাপুত্রের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর লেখা একটি চিঠি তিনি তুলে দিয়েছেন তারেক রহমানের হাতে। চিঠির প্রসঙ্গ খালেদা জিয়ার হাত ধরে দিল্লি এবং ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত।
শেষ থেকেই নতুন শুরু
খালেদা জিয়া নেই, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ অনেকটাই শান্ত। হাদির হত্য়া থেকে তারেক আসার আগের দিন পর্যন্ত যে ভাবে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে তা এখনও অনেক স্থিতিশীল। বিএনপি ব্য়স্ত আওয়ামী লিগের ভোটব্য়াঙ্ক টানতে, জামায়াত-এনসিপি ব্যস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরিতে। যা ঘিরেও রয়েছে বিবাদ। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতারা যখন এনসিপি তৈরি করল, সেই সময় তাঁদের মুখে শোনা গিয়েছিল মধ্য়পন্থী রাজনৈতিক ভাবধারার কথা। কিন্তু ভোটের খেলায় সবটাই বদলেছে। এনসিপি হাত মিলিয়েছে জামায়াতের সঙ্গে। তারপর দলে দেখা গিয়েছে ভাঙন। এক এক করে হাত ছেড়েছে অন্যতম মুখেরা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লিগ-হীন বাংলাদেশে বিএনপি-ই একমাত্র বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। সুষ্ঠ ভোট হলে তাঁদের ক্ষমতা দখলের সম্ভবনাও সবচেয়ে বেশি। হাসিনা দেশে নেই, তাঁর কোনও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজের ব্যাটম তারেকের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছেন খালেদা জিয়া। তাই দিল্লির আস্থাও এখন সেই খালেদাপুত্রে নেতৃত্বেই।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে তারেকের উদ্দেশে মোদী লিখেছেন, ‘২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় বেগম সাহিবা (খালেদা জিয়া)-র সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমার বিশ্বাস তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার টিকে-থাকবে। আমি নিশ্চিত বিএনপি-তে আপনার যোগ্য তাঁর আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বার্তা খুব স্পষ্ট, হাসিনা-হীন বাংলাদেশে তারেক রহমানকেই এগিয়ে রাখছে ভারত। কিন্তু কেন? তারেকের ভারত-বিরোধী মনোভাব নিয়েও তো কম গুঞ্জন নেই। ২০০১ সাল, বাংলাদেশে সরকার গড়ল বিএনপি, তবে একক নয়। তৎকালীন সময়ে মোট ৩৪৫টি আসনের মধ্য়ে ১৯৩টি পেয়েছিল বিএনপি। আর ম্যাজিক ফিগার দখলে সঙ্গে নিয়ে ছিল জামায়াতকে। সেই বছর তাঁরা পেয়েছিল মোট ১৭টি আসন।
এই সময় হাওয়া ভবন ছিল তারেক রহমানের কার্যালয়। তখন দলের অন্দরে খালেদা জিয়ার সমান্তরাল শক্তি তারেক। কেউ কেউ কটুক্তি করে বলেন, গণভবন থেকে সরকার চালাতেন খালেদা, আর হাওয়া ভবন থেকে দেশ চালাতেন তারেক। তাই তো দলের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য যে অফিস তৈরি হয়েছিল, সেটিকেই নিজের অফিস করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এটা শুধুই রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল না। একাংশের অভিযোগ, গোটা দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে অস্ত্র পাচারের কেন্দ্র ছিল এই হাওয়া ভবন। এমনকি, ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উলফা গোষ্ঠীর কাছে মদত যেত এই হাওয়া ভবন থেকেই।
এবার সেই তারেক রহমানেই কি আস্থা রাখছে দিল্লি? যদি রেখেও থাকে, তা হলে প্রশ্ন উঠছে, এমন পরিণতি কেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়াদিল্লির হাতে আর কোনও বিকল্প নেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন। তাতে কোনও ভাবে যদি জামায়াত-এনসিপি-র মতো দল মাইলেজ পেয়ে যায়, তা হলে তা ভারতের পক্ষে আরও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি করবে। জামায়াতের মতো কট্টরপন্থী দল ক্ষমতায় মৌলবাদ বাড়তি গতি পাবে। যার নানা নজির ইতিমধ্য়েই শাসনহীন বাংলাদেশে প্র্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারেকই একমাত্র পথ। বিকল্প নেই। তাই আস্থা রাখতেই হবে। রাখতে হবে নজরও।
