তৃণমূল ভবনে মুকুল, ‘বিজেপিতে লবিবাজি’ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট অনুপম হাজরার

এক সময় তৃণমূলেই ছিলেন অনুপম হাজরা। ২০১৯ সালে দল নিয়ে ঢেলে নিন্দামন্দ করতে শোনা যায় তাঁকে। এরপরই দল থেকে বের করে দেওয়া হয় অনুপমকে (Anupam Hazra)।

তৃণমূল ভবনে মুকুল, ‘বিজেপিতে লবিবাজি’ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট অনুপম হাজরার
ফাইল চিত্র।

কলকাতা: এবার দলের সমালোচনায় সরব হলেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা (Anupam Hazra)। বঙ্গ বিজেপিতে ‘লবিবাজি’ চলছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ ‘ডঃ হাজরা’র। কটাক্ষ করেছেন, চার্টার্ড বিমানে দিল্লি উড়ে যাওয়া ‘রয়্যাল’ সদস্যদেরও। তবে একইসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেছেন, আপাতত দলেই থাকছেন তিনি। দলীয় বৈঠকে তাঁকে যেন ডাকা হয় সে আর্জিও জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এক সময় তৃণমূলেই ছিলেন অনুপম হাজরা। ২০১৯ সালে দল নিয়ে ঢেলে নিন্দামন্দ করতে শোনা যায় তাঁকে। এরপরই দল থেকে বের করে দেওয়া হয় অনুপমকে। জানুয়ারিতে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তৃণমূল থেকে, মার্চেই যোগ দেন বিজেপিতে। মুকুল রায়ের হাত ধরেই বিজেপিতে যান তিনি। এবার সেই মুকুল রায় যখন আবারও ‘ঘরওয়াপসি’র পথে, তখন বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন অনুপম। একইসঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, দলে মোটেই ‘আদর যত্ন’ নেই তাঁর।

শুক্রবার অনুপম হাজরা টুইটারে লেখেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন ২-১ জন নেতাকে নিয়ে অতি মাতামাতি করা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও লবিবাজি করে বাকিদের বসিয়ে রেখে অবজ্ঞা বা অপমান করা’র করুণ পরিণতি!!! চার্টার্ড ফ্লাইটের রয়্যাল যাত্রীরাও মিসিং!!! এখনও সময় আছে, বঙ্গ বিজেপির উচিৎ লবিবাজি বন্ধ করে যোগ্যতা অনুসারে বসে থাকা নেতাদের কাজে লাগানো।’

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর লোকসভা ভোটে যাদবপুরের প্রার্থী করা হয়েছিল অনুপমকে। কিন্তু তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তী তাঁকে গোল দিয়ে দেন। ভোটে হারার পর সাংগঠনিক কাজে সে ভাবে তাঁকে আর ময়দানে দেখা যায়নি। বিরোধীরা বলছিল, অনুপম হার হজম করতে না পেরে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এদিন অনুপমের পোস্টে অন্য ইঙ্গিত পাওয়া গেল। দলেই যে অনেকে কোণঠাসা, তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভোটে হারা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন বিজেপির সব্যসাচী, শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগ জমা পড়ল দলের অন্দরে

বিজেপিতে লবিবাজির বাড়বাড়ন্ত বলেই এদিন অনুপম বারবার তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। তবে এই লবিবাজির কথা বলার জন্য তাঁকে যাতে শাস্তির মুখে না পড়তে হয় সে পথও খুলে রেখেছেন অনুপম। লিখেছেন, ‘দয়া করে বেসুরো তকমা লাগাবেন না। বঙ্গ বিজেপির অসময়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম। বিজেপিতে আছি এবং বিজেপিতে থাকব। জাস্ট বঙ্গ বিজেপিতে নোংরা লবিবাজি বন্ধ করার উদ্দেশে এই বার্তা।’ উল্লেখ্য, দলের ত্রুটি নিয়ে মুখ খুলে ইতিমধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায় কাঁধে নিতে হয়েছে বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্তকে।

আরও পড়ুন: মহাপঞ্চমীর এক সকালে বলেছিলেন ‘তৃণমূল ছাড়ছি’! আজ বাদলবেলায় তৃণমূল ভবনে সেই মুকুল রায়