মুকুল-সব্যসাচী জল্পনার মধ্যেই আরও জোরাল রাজীবের তৃণমূল যোগের সম্ভাবনা, ফিরতে পারেন আগামী সপ্তাহেই

ঠিক যে ভাবে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়েছিল বিজেপি (BJP), এবার বোধহয় তারই পাল্টা স্রোত বওয়ার পালা।

মুকুল-সব্যসাচী জল্পনার মধ্যেই আরও জোরাল রাজীবের তৃণমূল যোগের সম্ভাবনা, ফিরতে পারেন আগামী সপ্তাহেই
ফাইল চিত্র।

কলকাতা: রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rajib Banerjee) তৃণমূলে ফেরার জল্পনা আরও জোরাল হচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই হয়ত পুরনো দলে ফিরে যেতে পারেন ডোমজুড়ের বিজেপি নেতা রাজীব। ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। এবার শোনা যাচ্ছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ‘ঘর ওয়াপসি’ও সেরে ফেলতে চাইছেন তিনি।

ঠিক যে ভাবে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়েছিল বিজেপি, এবার বোধহয় তারই পাল্টা স্রোত বওয়ার পালা। একের পর এক হেভিওয়েট থেকে ব্লক স্তরের নেতা, বিজেপি ছেড়ে ফিরতে চাইছেন তৃণমূলে। কেউ সরাসরি চিঠি লিখছেন, কেউ আবার পুরনো দল ও দলনেত্রীর প্রতি নরম সুরে বার্তা দিচ্ছেন! রাজনৈতিক মহল বলছে, সকলের বার্তাতেই প্রচ্ছন্ন সুর, ‘ফিরিয়ে নিন’।

ভোটের আগে আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শিক্ষিত, মার্জিত, মিতভাষী রাজীব নতুন দলে যোগ দিয়ে প্রথম দিকে একটু সুর চড়াচ্ছিলেন পুরনো দলের প্রতি। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে, কথায় সংযম ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। তৃণমূলের অন্দরের খবর, বাংলার সংস্কৃতির পরিপন্থী হয়ে বাংলায় রাজনীতি করা যে সহজ নয় তা রাজীব বুঝতে পেরেছিলেন।

সম্প্রতি রাজীবের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে হইচই পড়ে যায়। বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সমালোচনা তো অনেক হল… মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে আসা সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না।” এই ফেসবুক পোস্টের পর থেকেই তাঁর ঘরে ফেরার সম্ভাবনা জোরাল হয়।

সে জল্পনা আরও খানিক উস্কে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, “আগেই আমি বলেছি রাজীব আমার ছোট ভাইয়ের মত। কেন ওর এটা হল, কেন ও বিজেপিতে গেল এটা আমার কাছেও খুব বিস্ময়। যাওয়ার আগের দিনও আমি ওঁকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু দেরিতে হলেও যদি ওঁর বোধহয় হয় তবে সেটা ভাল লক্ষণ।” সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই আবারও ঘাসফুলে ফিরছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এ নিয়ে রাজীব এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।