Calcutta High Court on Abhishek: ‘এনাফ ইজ এনাফ’, বারবার অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা শুনে বিরক্ত বিচারপতি ভট্টাচার্য
Calcutta High Court: সেই সময় অভিজিত ববির আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ বলেন, "হতে পারে উনি হেরেছেন, তার মানে এই নয় ওঁর অধিকার নেই অভিযোগ করার। সরকার বদল না হলে এগুলি কি সামনে আসত? একজন নয়, অনেকেই লুট হয়েছেন। ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন। মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। সেটা কি আইনত?"

কলকাতা: ভোটের রেজাল্টের পর থেকে ক্রমাগত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে অভিযোগে বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। গত ২১ মে থেকে একই ধরনের অভিযোগ শুনে ক্লান্ত,পর্যবেক্ষণ আদালতের। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “বাধ্য হব নির্দেশ দিতে, নতুন করে কোনও FIR করবেন না আদালতের আদেশ ছাড়া। অন্তত তিনটে মামলা দেখেছি কোনও ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তি যিনি নিজে হেরেছেন, তিনি করছেন অভিযোগ।”
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড…
কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা ঝুলছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁর ‘সেবাশ্রয়’প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিজেপির অভিজিৎ দাস (ববি)। আজ মূলত সেই মামলারই শুনানি ছিল। ৪ জুলাই ও ১১ জুলাই একই অভিযোগে এফআইআর (FIR) হয় ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে। দাবি, কোনও মেডিক্যাল স্ট্যাটুটারি বোর্ডের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “এটা চিকিৎসার গাফিলতির বিষয়। এই নিয়ে যদি কোনও অভিযোগ ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের কাছে করেছেন, তার নথি দেখান আমায়।” সেই সময় সওয়াল করেন অ্যাডিশনাল এজি রাজদীপ মজুমদার। বলেন, “এক্স-রে মেসিন থেকে আরাম্ভ করে সব মেসিন লাগাতে গেলে অনুমতি নিতে হয়। সেগুলি নেওয়া হয়নি। ‘মেডিসিন ড্রাগ কন্ট্রোলার’ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিষেকই হুইসেল ব্লোয়ার।”
সেই সময় ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ। চিকিৎসকও জড়িত থাকলে আইন অনুসারে তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে। এটা বড়জোড় চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে।” বিচারপতি জানতে চান, সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অভিযোগকারী কোনও রোগী আদৌ মেডিক্যাল বোর্ডে এই নিয়ে অভিযোগ করেছেন?
অ্যাডিশনাল এজির পাল্টা সওয়াল, “কীভাবে যাবে? একব ছর আগে সেই পরিস্থিতি কি ছিল?” বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “একই ব্যক্তি যিনি নিজে হেরেছেন তিনি করছেন অভিযোগ।”
সেই সময় অভিজিত ববির আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ বলেন, “হতে পারে উনি হেরেছেন, তার মানে এই নয় ওঁর অধিকার নেই অভিযোগ করার। সরকার বদল না হলে এগুলি কি সামনে আসত? একজন নয়, অনেকেই লুট হয়েছেন। ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন। মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। সেটা কি আইনত?”
এরপর বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “তদন্তের আগে কি সরাসরি দোষী বলা যায়? এই অভিযোগে সন্তুষ্ট নই। তদন্ত চলতে পারে।” অপরদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর FIR-এর রক্ষাকবচের উদাহরণ টেনে বলেন, “এক রাজনৈতিক দল আগে ভুল করে এফআইআর করেছিল। এখন আরেক রাজনৈতিক দল একই ভুল করছে।”
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ নভেম্বর। আপাতত সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নয়। তবে তদন্ত চলবে। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে।
