কলকাতা: তাঁর অশক্ত শরীর এখন আর মাঠে ময়দানে নেমে বার্তা দিতে পারে না। মঞ্চের পোডিয়ামে দেখা যায় না ধবধবে সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা সেই মানুষটার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত, শোনা যায় না গমগমে গলার ভাষণ। কিন্তু তারপরও ভীষণভাবে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে বাম সংগঠনগুলির বিভিন্ন সম্মেলন সমাবেশে। এখনও বিছানায় শুয়ে তিনি কোনও বার্তা দিলে, সে বার্তাই ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ডিওয়াইএফআই-এর ১১তম সারা ভারত সম্মেলন চলছে। ১২ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। সল্টলেক সেক্টর থ্রিতে ‘ইজেডসিসি’তে এই সম্মেলনে শুক্রবার অডিয়ো বার্তা পাঠালেন বুদ্ধবাবু। যদিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বার্তা শোনানো যায়নি। সেটি পড়ে শোনান ডিওয়াইএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভয় মুখোপাধ্যায়। তবু তার উন্মাদনা কিছু কম নয় ডিওয়াইএফআই সদস্যদের জন্য। মূলত, বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিকূলতার মধ্যেও যুবরা লড়াইয়ের ময়দানে আছেন, এমনটাই মত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। যুব মঞ্চে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এই বার্তা এদিনের সম্মেলনকে একটা আলাদা মাত্রা দিল বলেই মত তরুণ তুর্কিদের।
তাঁর যুব প্রজন্মকে কী বার্তা দিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মত, ‘বর্তমানে আমাদের রাজ্যে এবং দেশে যে জনবিরোধী ও দমন পীড়নের সরকার চলছে, তা প্রতিহত করতে পারে একমাত্র বামপন্থী আন্দোলন। সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকে সমস্ত প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে পশ্চিমবঙ্গের ডিওয়াইএফআই কর্মীরা রাজ্যের সর্বত্র প্রতিদিন আন্দোলন সংগঠিত করছেন। তাঁদের সংগ্রামকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। ডিওয়াইএফআইয়ের এই সম্মেলনের সমস্ত সদস্যবৃন্দকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
সিপিএমের ৩৪ বছরের সাফল্যকে তুলে ধরে এদিন এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাম নেতা গৌতম দেব। তিনদিন ধরে এই প্রদর্শনী চলবে। একই সঙ্গে বামেদের সংগ্রামের এক দশককে তুলে ধরতে বিভিন্ন ছবি, পোস্টার তুলে ধরা হয়েছে এখানে।