কলকাতা: গ্রাম দখলের লড়াই ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। প্রকৃতিও ছাড় দিচ্ছে না। প্রকৃত অর্থেই তপ্ত বাংলা। শুধু জ্যৈষ্ঠের শেষ নয়, আষাঢ়েও ‘গ্রাম দখলে’ রাখবে তাপপ্রবাহ! আপাতত ‘নমিনেশনের’ সুযোগই পাবে না বর্ষা। ১৭ জুন পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের ৭ জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। ভ্যাপসা গরমে ঘেমেনেয়ে কাদা হবে কলকাতা, উপকূলের বিস্তীর্ণ তল্লাট। আরও একবার ৩৯ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলতে পারে মহানগরের তাপমাত্রা।
একমাত্র বর্ষার মেঘ ঢুকলেই রেহাই পাওয়া যেত। মেঘলা আকাশ, দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হলে থমকে যেত তাপপ্রবাহের দৌড়। সাময়িকভাবে মুছে যেত প্যাচপেচে গরমও। কিন্তু এ বার শুরুতেই ‘লেট’ বর্ষার। ১ জুন নয়, কেরলে বর্ষা পৌঁছেছে গত ৮ জুন। চলতি শতাব্দীতে এই নিয়ে মাত্র চার বার কেরলে বর্ষা ঢুকতে এতটা দেরি করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মৌসম ভবনের তথ্য বলছে, ২০০৩ ও ২০১৬- এই দু’বছরই কলকাতায় বর্ষা পৌঁছেছিল ১৭ জুন। ২০১৯ সালে এসেছিল ২০ জুন। সে বার গোটা দক্ষিণবঙ্গে পৌঁছতে লেগেছিল আরও দু’দিন। ২০০৫ সালেও কলকাতায় বর্ষা পৌঁছয় ২০ জুন। সে বছর কেরলে মৌসুমী বায়ু ঢুকেছিল ৫ জুন। আসলে গোড়ায় দেরি করলে, বাকি অংশে ছড়াতে সময় লাগে। যদি নিম্নচাপের মতো অনুঘটক হাজির হয় তাহলে পরে ছড়িয়ে পড়তে পারে দ্রুত।
এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরে কোনও ইঙ্গিতই দেখতে পাচ্ছে না আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মৌসম ভবনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলছেন, ‘‘আগামী অন্তত তিন দিনের মধ্যে বর্ষার কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে সুবিধা হত। তারও কোনও লক্ষণ নেই। এমনকী দক্ষিণবঙ্গে প্রাকবর্ষার বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা নেই। বজ্রগর্ভ মেঘে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে, তাতে গরম কমবে না।’’
১৭ জুন পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের ৭ জেলা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূমে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৪২.৩ ডিগ্রিতে। আপাতত ৪২-৪৩ ডিগ্রির গরমেই ফুটবে রাঢ়বঙ্গ।
ঠিক উল্টো ছবি উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণে টানা দহন, উত্তরে টানা বর্ষণ। অন্তত ১৭ জুন পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভুটান পাহাড়েও প্রবল বৃষ্টি হবে। ফলে নীচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কম নয়। সঞ্জীববাবু বলছেন, ‘‘দখিনা-পশ্চিমী বাতাস সোজা পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা মারছে। তাই উত্তরবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রবল বৃষ্টি চলবে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে আন্দামান-নিকোবরেও।’’ শুধু দক্ষিণবঙ্গেরই মন্দ কপাল!