Mohan Bhagwat: অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভাতে মারার’ নিদান দিলেন ভাগবত
Mohan Bhagwat: ছাব্বিশের নির্বাচনের আগেও জানুয়ারিতে মালদার সভায় মোদী দাবি করেন যে, অনুপ্রবেশের ফলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোর জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কারণ হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অভিযোগ, রাজ্য সরকার নিজেদের ভোটব্যাংক বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে।

কলকাতা: ‘অনুপ্রবেশ’- এই শব্দবন্ধটি বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, তাঁদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বিজেপি। আর এই ইস্যুটিই রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে সংঘাতের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতেই বঙ্গে তৈরি হয়েছে এই এসআইআর, CAA, NRC-এর আবহ! সব শব্দগুলিই একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সকলেই বাংলায় এসে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাসকদলকে বিঁধেছে। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার বিশেষ রাজনৈতিক দলের একটা বড় ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। এবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও খানিকটা সেই কথাই বললেন, তবে একেবারে অন্য প্রেক্ষাপটে। এবার অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভাতে মারার’ নিদান দিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আরএসএসের প্রতিষ্ঠা শতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে উপস্থিত ছিলেন আরএসএস প্রধান। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও সতর্ক করেছেন এবং একে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যেন কোনো কাজ বা চাকরি না পায়।’’ কার্যত তাঁদের ভাতে মারার নিদান দিয়েছেন তিনি।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগেও জানুয়ারিতে মালদার সভায় মোদী দাবি করেন যে, অনুপ্রবেশের ফলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোর জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কারণ হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অভিযোগ, রাজ্য সরকার নিজেদের ভোটব্যাংক বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে “মানুষ তো দূর, পাখিও সীমান্ত পার হতে পারবে না।”
তৃণমূলের অবশ্য ন্যারেটিভ, অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার নামে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের (বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের) নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাতিল হওয়াকে তারা বড় ‘স্ক্যাম’ হিসাবে দেখাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু এসবের মাঝে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন মতুয়ারাও। বিজেপি অবশ্য সিএএ-এর মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী হঠাতে SIR- এই গোটা বিষয়টি রাজ্যে সমান্তরাল দুটো ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপি এই ইস্যুটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয়’ হিসাবে দেখছে, আর তৃণমূল একে ‘বাঙালি ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করছে।
