কলকাতা: স্যালাইন কাণ্ডের জেরে বুধবার রদবদল হয় স্বাস্থ্য ভবনে। স্বাস্থ্য সচিবের অধীনস্থ সচিব চৈতালী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ড্রাগ ও ইকুপমেন্ট বিভাগ থেকে। বুধবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে গিয়ে বিরোধী দলনেতা দেখা করেছিলেন চৈতালীর সঙ্গে। সেই কারণেই কি সরতে হল তাঁকে? নাকি স্যালাইন, ওষুধ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি বলেই তাঁর দায়িত্বে বদল হল?
একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন চৈতালী। এমনকি, চৈতালির স্বামী নবান্নের গুরুত্বপূর্ণ আমলাও। মুখ্যমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ বলেই চর্চা আছে প্রশাসনিক মহলে। তবে তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় উঠছে প্রশ্ন। গতকাল শুভেন্দু অধিকারী কয়েকটি প্রশ্ন করেন চৈতালীকে। তিনি বলেন, “আপনি বলছেন চারজনকে দেওয়া হয়েছে ওই স্যালাইন।” চৈতালী যদিও বলেন, “না না চারজনকে দেওয়া হয়নি।” বিরোধী দলনেতাকে বলতে শোনা যায়, “আপনার নিচের তলা আমার টাচে থাকে। আপনার মেসেজ টাইপ হওয়ার আগে আমি পাই।” বিজেপি বিধায়কের দাবি, এই ঘটনার জন্য মাথারাই দায়ি। উপরতলা থেকে যা ঘটেছে তার বিচার চাই। ইডি এই ঘটনার তদন্ত করুক। শুভেন্দু যে সময় একের পর এক প্রশ্ন করছেন সেই সময় কার্যত চুপ কখনও বা কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা গিয়েছে চৈতালীকে। এরপর সন্ধে নাগাদ বদল হন চৈতালী চক্রবর্তী।
সম্প্রতি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও তিন প্রসূতি। মেদিনীপুর থেকে কলকাতার এসএসকেএমে আনা হয়েছে তাঁদের। সেই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসে, স্যালাইনে সমস্যা থাকাতেই এই ঘটনা। পরবর্তীতে আরও অনেক তত্ত্ব উঠে এলেও, স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার ওষুধে ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। এবার আরও এক পদক্ষেপ করে স্বাস্থ্য দফতর।