কলকাতা: ‘জ্যোতি বসুর পার্টির মতো ঐতিহাসিক ভুল তৃণমূল কংগ্রেস করবে না।’ সাংবাদিক বৈঠক বসে জোর গলায় জানিয়ে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা শাসক দলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। রবিবারই তিনি দাবি করেছিলেন, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আজ সাংবাদিক বৈঠকে আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বললেন, ‘যদি এর মাঝখানে মমতার হাতে দিল্লিতে কোনও গুরুদায়িত্ব চলে আসে, তাহলে রাজ্যের দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন।’ তৃণমূল মুখপাত্রের সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকলে স্বাভাবিক অঙ্কেই জ্যোতি বসুর রেকর্ড ভেঙে দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সিপিএমের মতো ঐতিহাসিক ভুল কোনওভাবেই করবে না তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, বাংলায় ৩৪ বছরের বাম জমানায় একটি বড় অংশজুড়ে ছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। অতীতে ১৯৯৬ সালে জ্যোতি বসু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। শোনা যায়, সেই সময় সায় দেয়নি সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার স্বপ্ন হাতছাড়া হয়েছে বঙ্গবাসীর। কিন্তু কুণাল ঘোষ বুঝিয়ে দিলেন, সেই ‘ঐতিহাসিক ভুলের’ পথে এগোবে না তৃণমূল শিবির।
তৃণমূল মুখপাত্র বললেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জ্যোতি বসুর পার্টির মতো ঐতিহাসিক ভুল করবে না। যদি দেশকে পরিচালনার চ্যালেঞ্জ সামনে আসে, যদি দেশবাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চান, তখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ১৯৯৬ সালে যদি সিপিএম পলিটব্যুরো পালিয়ে না যেত, যদি জ্যোতি বসুকে পরম আক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক ভুল বলতে না হত, তাহলে ১৯৯৬ সালেই জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হতেন এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হতেন।”