কলকাতা: বাংলার বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন বা ৩৫৬ ধারা জারি হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলেই মনে করছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে তিনি ৩৫৬ ধারা জারির পক্ষপাতী নন। বলছেন, ‘বিজেপি ক্ষমতার জন্য লালায়িত নয়। আমরা নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমেই রাজ্যে পরিবর্তন আনতে চাই। তাই ৩৫৬ ধারা লাগানোর মতো পরিস্থিতি থাকলেও আমি ৩৫৬ ধারার কথা বলব না।’ সেক্ষেত্রে ৩৫৫ ধারা জারি করার পক্ষেই মত বিরোধী দলনেতার। আজ বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে দাবি তুললেন, ৩৫৫ ধারা লাগু করে রাজ্যের গ্রামীণ থানাগুলিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর আওতায় যাতে অন্তত তিন মাস রাখা হয়।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের তরফে সরাসরি ৩৫৫ ধারা লাগু করা যায় না। সেক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে, কিংবা রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুরোধের প্রেক্ষিতে অথবা রাজ্যপাল এই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারেন। সেই কথা উল্লেখ করে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস যাতে ৩৫৫ ধারা জারি করার কথা বিবেচনা করেন, সেই অনুরোধও করেন শুভেন্দু। রাজ্যপালের কাছে তাঁর আবেদন, ‘৩৫৫ ধারা লাগিয়ে মৃত্যু মিছিল বন্ধ করুন।’ রাজ্যপালের গত কয়েকদিনের উদ্যোগের প্রশংসাও করতে দেখা গেল বিরোধী দলনেতাকে। বললেন, ‘রাজ্যপাল চেষ্টা করছেন কমিশন ও রাজ্য সরকারের বিবেককে জাগ্রত করতে।’
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট শেষ হওয়ার পর হঠাৎই দিল্লি গিয়েছেন বাংলার সাংবিধানিক প্রধান সিভি আনন্দ বোস। বলেছেন, তিনি ‘ফ্রেশ এয়ার’ নেওয়ার জন্য দিল্লিতে গিয়েছেন। ভোটের পরই রাজ্যপালের এই দিল্লিযাত্রা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা ঘিরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর এরই মধ্যে শুভেন্দুর এই দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।