আপনার কী যখন তখন হাত কাঁপে? সাবধান না হলেই পঙ্গুত্ব
ক্লিনিক্যাল স্টাডি অনুযায়ী, যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাত মুঠো করতে বা আঙুল সোজা করতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে (যাকে 'Morning Stiffness' বলা হয়), তবে এটি সরাসরি জয়েন্টের তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ ক্ষয়ের সংকেত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষকদের মতে, এটি সাধারণ পেশির ব্যথা নয়, বরং জয়েন্টের ভেতরের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড শুকিয়ে যাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপটা কি ঠিকমতো ধরতে পারছেন না? কিংবা ল্যাপটপে টাইপ করতে গিয়ে আঙুলের গাঁটে হালকা চিনচিনে ব্যথা? সাবধান! এটাকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া মানেই আপনি নিজের অজান্তে বড় কোনো বিপদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। হয়তো আপনার হাতই ভয়ানক ‘রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ এর সংকেত দিচ্ছে।
গবেষণা কী বলছে?
‘আমেরিকান কলেজ অফ রিউমাটোলজি’ (ACR)-এর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন রোগ। গবেষণায় প্রমাণিত যে, রক্ত পরীক্ষায় (যেমন- RF বা Anti-CCP) রোগ ধরা পড়ার প্রায় ৩ থেকে ৫ বছর আগে থেকেই হাতের আঙুলের ছোট জয়েন্টগুলোতে সমস্যা শুরু হয়। একে চিকিৎসকরা ‘প্রি-ক্লিনিক্যাল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস’ পর্যায় বলেন।
হাতের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিপদের সংকেত
ক্লিনিক্যাল স্টাডি অনুযায়ী, যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাত মুঠো করতে বা আঙুল সোজা করতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে (যাকে ‘Morning Stiffness’ বলা হয়), তবে এটি সরাসরি জয়েন্টের তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ ক্ষয়ের সংকেত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষকদের মতে, এটি সাধারণ পেশির ব্যথা নয়, বরং জয়েন্টের ভেতরের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড শুকিয়ে যাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা।
মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায়, আপনার আঙুলের মাঝখানের জয়েন্টগুলো যদি ফুলে ঢোল হয়ে যায়, তবে তাকে ‘বউচার্ডস নোডস’ (Bouchard’s nodes) বলা হয়। এটি কোনও সাধারণ ফোলা নয়, বরং জয়েন্টের ভেতরের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আঙুলগুলো চিরতরে তেরছা বা বাঁকা হয়ে যেতে পারে, যাকে চিকিৎসকরা ‘উলনার ডেভিয়েশন’ (Ulnar Deviation) বলেন। একবার হাড়ের এই গঠন বদলে গেলে তা আর আগের অবস্থায় ফেরানো প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ, আজ যে ব্যথাকে আপনি অবহেলা করছেন, কাল তা আপনাকে নিজের হাতে এক গ্লাস জল খাওয়ার ক্ষমতাটুকুও কেড়ে নিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ শুরুতে ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’-এ ভোগেন। হাতের তালুর নিচে থাকা মিডিয়ান নার্ভের ওপর চাপ পড়লে আঙুলে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব তৈরি হয়। তাই এই সমস্যা দেখা গেলে আজই সতর্ক হন। হাতের এই ছোটখাটো সংকেতগুলো অবহেলা করবেন না।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সঠিক ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট থেরাপি এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে জয়েন্টের ক্ষয়কে রোখা সম্ভব। ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার এবং নিয়মিত জয়েন্ট এক্সারসাইজ করলে এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পারেন।
