
ব্যারাকপুরে বিজেপির মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে একেবারে অ্যাকশন মোডে পুলিশ। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই সক্রিয় ভূমিকায় উর্দিধারীরা। জলকামান, কাদানে গ্যাসের শেল থেকে শুরু করে লাঠিচার্জ কিছুই বাদ গেল না।

পুলিশের অ্যাকশন শুরু হতেই ভিড়ের মধ্যে থেকে ইটবৃষ্টি হতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এদিকে বিজেপির তরফ থেকে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়, পুলিশও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের দিকে ঢিল ছুড়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, 'পুলিশ ইট ছুড়েছে। আমাদের বহু লোক আহত। কারও পাঁজর ভেঙে গিয়েছে, কারও পা ভেঙে গিয়েছে। প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।'

ঘটনাস্থলের যে দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তা এককথায় খণ্ডযুদ্ধের থেকে কম কিছু নয়। শুধু জলকামান, কাদানে গ্যাসের শেল বা লাঠিচার্জই নয়। ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ চড়-থাপ্পড় মারতেও উদ্যত হয়।

এক ব্যক্তি পুলিশের তাড়া খেয়ে রাস্তার ধারে ফুটপাথে পড়ে যান। সেই সময়েও তাঁকে ঘিরে ধরে পুলিশ এবং এক পুলিশকর্মী ওই ব্যক্তির মুখে লাথি পর্যন্ত মারেন। সেই দৃশ্যই ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।

কেউ আবার পুলিশের তাড়া খেয়ে ভয়ে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের উপরেও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ভিড়ের মধ্যে থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটবৃষ্টি হতে শুরু করে। রাস্তার মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল বড় বড় ইটের টুকরো। পুলিশকর্মীদের দেখা গিয়েছে, পাল্টা সেই ঢিলগুলি রাস্তা থেকে তুলে ভিড়ের দিকে ছুঁড়ে মারতে।

ব্যারাকপুরের লালকুঠির কাছে এদিন পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

সোমবার ব্যারাকপুরে বিজেপির মিছিলকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা এলাকা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কোনও খামতি রাখল না পুলিশ। পুরোপুরি অ্য়াকশন মোডে।

বিজেপির তরফে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ তুলছেন, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মাথায় পর্যন্ত লাঠিচার্জ করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুকান্তর প্রশ্ন, 'মাথায় কেউ কখনও লাঠিচার্জ করে?' এক পুলিশকর্মীর নাম উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।