হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মেই বৈশাখ পূর্ণিমা (Vaishakh Purnima) বা বুদ্ধ পূর্ণিমার (Buddha Purnima) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল। তাই এই দিনতে বুদ্ধ পূর্ণিমাও হিসেবে পালন করা হয়। পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, এই বছর বৈশাখ পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হবে আগামী ১৬মে। শাস্ত্র মতে এই দিন ভগবান বুদ্ধ, ভগবান বিষ্ণু ও ভগবান চন্দ্রদেবের পূজা করার নিয়ম রয়েছে। হিন্দুধর্মে (Hinduism) বুদ্ধকে ভগবান বিষ্ণুর অন্যতম অবতার হিসেবে মনে করা হয়। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন যে, যখন ভগবান কৃষ্ণের বাল্যবন্ধু সুদামা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দ্বারকায় পৌঁছোন, তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে সত্য বিনায়ক পূর্ণিমা ব্রতের নিয়মের কথা বলেছিলেন। কৃষ্ণের কথামত উপবাসে রাখে সুদামা। তারপরই তাঁর দারিদ্র্যের অবসান ঘটিয়ে সমৃদ্ধি ফিরে আসে।
শুভতিথি
বৈশাখ পূর্ণিমা পালিত হবে আগামী ১৬ মে, সোমবার।
পূর্ণিমার তিথির শুরু- ১৫ মে, দুপুর ১২.৪৫ মিনিট
পূর্ণিমা তিথির সমাপ্তি- ১৬ মে সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিট।
পুজোর পদ্ধতি
এই পূর্ণিমায় উপবাস ও পুণ্যকর্ম সম্পন্ন করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। অন্যান্য পূর্ণিমার উপবাসের মতো, বৈশাখ পূর্ণিমা ব্রতের আচার-অনুষ্ঠানও একই, যদিও কয়েকটি বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানও রয়েছে। বৈশাখ পূর্ণিমার দিনে পবিত্র নদীর বা বাড়িতে ২ ফোঁটা গঙ্গাজল যোগ করে স্নান করুন। বাড়ির মন্দির সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার করুন এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এই দিন দেব-দেবীকে আহ্বান করে প্রণাম করতে হবে। সবার প্রথমে ভগবান বিষ্ণুর ছবির মূর্তির গায়ে হলুদ দিয়ে অভিষেক করুন এবং তাঁকে তুলসী নিবেদন করুন। ভগবান বিষ্ণুর প্রতিটি পূজায় তুলসী অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর পূজা ও আরতিও করা প্রয়োজন। পূজার সময়, ভগবান বিষ্ণুকে সাত্ত্বিক জিনিস নিবেদন করে উপবাসের ব্রত পালন করুন। উপবাসের সময় চন্দ্রপুজোর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই রাতে চাঁদ ওঠার পর চাঁদে জল নিবেদন করে উপবাস ভঙ্গ করতে পারেন।
গুরুত্ব
হিন্দু ধর্ম অনুসারে বৈশাখ পূর্ণিমায় ধর্মরাজের পূজা করা হয়। এই দিনে উপবাস রাখলে অকাল মৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি পান ভক্তরা। পৌরাণিক গ্রন্থ অনুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পরম বন্ধু সুদামাকে এই উপবাসের গুরুত্বের কথা বলেছিলেন। মনে করা হয় এই উপবাসের প্রভাবে সুদামার দারিদ্র্য দূর হয় এবং তিনি অত্যন্ত বিত্তশালী হয়ে ওঠেন। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু ও ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় এবং সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়।