
মঙ্গলগ্রহে লুকিয়ে রয়েছে অনেক ধরনের রহস্য। বর্তমানে লালগ্রহের পৃষ্ঠদেশে রয়েছে নাসার মার্স রোভার পারসিভের্যান্স। এছাড়াও রয়েছে মার্স হেলিকপ্টার ingenuity। মঙ্গলগ্রহে জল এবং প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছে এই নাসার এই দুই যন্ত্রাংশ। তবে এবার মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে Mars Reconnaissance Orbiter। লালগ্রহের চারপাশে প্রায় দেড় দশক ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে এই Mars Reconnaissance Orbiter। এর মূল লক্ষ্য হল মঙ্গল গ্রহের আগ্নেয়গিরি, উপত্যকা, শুকিয়ে যাওয়া হ্রদ এবং তার বাইরের অন্যান্য চিত্র পৃথিবীতে পাঠানো। সম্প্রতি মার্কিন স্পেস এজেন্সির তরফে টুইটে একটি নতুন ছবি শেয়ার করেছে। ওই অরবিটারের মাধ্যমেই তোলা হয়েছে ছবি। আর সেখানে দেখা গিয়েছে মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠদেশে বিরাজ করছে একটি অদ্ভুত দর্শন ক্র্যাটার বা গহ্বর।
জানা গিয়েছে, এই গহ্বর বা গর্ত প্রায় আধ মাইল চওড়া। বিজ্ঞানীদের অনুমান কোনও গ্রহাণু বা উল্কাপাতের ফলে বহু বছর আগেই এই গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে আবহবিকার হয়েছে এই গহ্বরের মধ্যে। ভরাটও হয়েছে এই গর্ত। বায়ুপ্রবাহ, বাল, মাটি সবকিছুর প্রভাবেই ওই গহ্বরের উপরে আবহবিকারের ছাপ সুস্পষ্ট। এখানে রিপল প্যাটার্ন বা এয়োলিয়ান রিপল (বায়ুপ্রবাহের ফলে সৃষ্টি) দেখা গিয়েছে ক্র্যাটার ফ্লোর বা গহ্বরের মধ্যভাগে। বায়ুপ্রবাহের ফলে আবহবিকার হলে যে ধরনের প্রাকৃতিক গঠন সৃষ্টি হয়, সেই সবই দেখা গিয়েছে এই গহ্বরের মধ্যে। এখানে একটি মেসা অথবা ফ্ল্যাট টপ হিল, এইসব ফিচার দেখা গিয়েছে ওই ক্র্যাটারে। এই গহ্বরের উপরের দিকের ডানদিকের চতুর্ভূজ অংশে এইসমস্ত গঠন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ঢেউয়ের মতো যে অংশ লক্ষ্য করা গিয়েছে তাকে বলা হচ্ছে মেসা। এই মেসা মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে তৈরি হয়। বায়ুপ্রবাহের ফলে আবহবিকারের ফলেই এই মেসা তৈরি হয়েছে মঙ্গলগ্রহের গহ্বরে। দক্ষিণ-পশ্চিম মরুভূমির সঙ্গে এইসব গঠনের মিল রয়েছে। এছাড়াও ফ্ল্যাট টপড হিল দেখা গিয়েছে এখানে। মঙ্গলগ্রহের চারপাশের কক্ষপথে ঘোরার সময় Mars Reconnaissance Orbiter এই ছবি তুলেছে। তারপর টুইটারে ‘নাসা মার্স’- এর তরফে এই ছবি শেয়ার করা হয়েছে।