New Farakka Station: দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার, গঙ্গা ও পদ্মা মিশে গেলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুর্শিদাবাদের বহু এলাকা, মিলল বড় অশনি সংকেত
Murshidabad River Erosion: নিউ ফরাক্কা রেলওয়ে স্টেশন। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে গিয়েছে যে রেলপথ, সেখান একপাশে গঙ্গার শাখানদী আরেক পাশে মূল স্রোত। অর্থাৎ একদিকে পদ্মা আরেকদিকে ভাগীরথী বা হুগলি, যাকে গঙ্গা বলেই চেনে পশ্চিমবঙ্গ। ঘটনা হল গঙ্গার দু'টো ধারার মধ্যে দূরত্ব এই মুহূর্তে দেড় কিলোমিটার।

মুর্শিদাবাদ: নিউ ফরাক্কা স্টেশনের (New Farakka Station) কাছে ধসের জেরে ব্যাহত ট্রেন চলাচল। রেলপথে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজকের মধ্যেই রেললাইনে মেরামতের কাজ শেষ হবে। কিন্তু, রেল লাইনে এই ধস আরও বড়সড় অশনি সংকেত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপদ লুকিয়ে রয়েছে আরও গভীরে। যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তাতে যে কোনও মুহূর্তে মিশে যেতে পারে গঙ্গা ও পদ্মা। আর তা হলে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বহু এলাকা?
নিউ ফরাক্কা রেলওয়ে স্টেশন। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে গিয়েছে যে রেলপথ, সেখান একপাশে গঙ্গার শাখানদী আরেক পাশে মূল স্রোত। অর্থাৎ একদিকে পদ্মা আরেকদিকে ভাগীরথী বা হুগলি, যাকে গঙ্গা বলেই চেনে পশ্চিমবঙ্গ। ঘটনা হল গঙ্গার দু’টো ধারার মধ্যে দূরত্ব এই মুহূর্তে দেড় কিলোমিটার। আশঙ্কা একটাই এখনই ভাঙন ঠেকাতে না পারলে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে গঙ্গা-পদ্মা মিশে যাবে। তাহলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, বল্লারপুরের মতো বহু এলাকা বরাবরের মতো হারিয়ে যাবে। রেল ও সড়কপথে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাহত হতে পারে। আজ না হোক কাল রেলপথ সারিয়েও নেওয়া যাবে। কিন্তু, ভাঙন প্রতিরোধ না করতে পারলে অনেক বড় বিপদ হতে পারে।
মুর্শিদাবাদের দিকে ভাঙনের মূল কারণ কী?
কৌশিক চক্রবর্তী নামে এক নদী বিশেষজ্ঞ বলেন, “যখন ফরাক্কা বাঁধ তৈরি হল, জল নিয়ন্ত্রণের বিষয় হল, কলকাতা বন্দরকে জল দেওয়া শুরু হল, তারপর বাংলাদেশও জলের জন্য বলতে থাকল। ১৯৯৬ সালে যখন বাংলাদেশের সঙ্গে জলচুক্তি হল, তখন থেকে সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করল। আমাদের আপস্ট্রিমে কোনও চড়া ছিল না। জলচুক্তির পরেই চরটা তৈরি হল। ডাউনস্ট্রিমেও জল শুকোতে শুরু করল। আর দুই-তিন বছর পর থেকে ভাঙনটা ভয়াবহ আকার ধারণ করল।”
বদলে যাবে ভূগোল?
ভাঙন ঠেকাতে না পারলে সত্যি কি গঙ্গা ও পদ্মা মিশে যেতে পারে? সত্যি কি দেড় কিলোমিটার স্থলভাগ কি বিলুপ্ত হতে পারে? ওই বিশেষজ্ঞের দাবি, পুরোটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো জায়গা তৈরি হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র বদলে যেতে পারে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র বদলে যাওয়া মানে অর্থনীতি বদলে যাওয়া। কী ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে, তা কল্পনা করা যাচ্ছে না।”
