দেগঙ্গা: কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গৃহবধূ। অভিযোগ তার জেরেই লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ওই মহিলা। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দিকেই আঙুল উঠেছে। পরে থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা। সেখানেই শ্বশুরবাড়ির দ্বারা নির্যাতিত হতেন এক গৃহবধূ। অভিযুক্ত স্বামীর নাম গোবিন্দ আইচ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা গৃহবধূর নাম সোনালি আইচ। সোনালি দেবীর বাপের বাড়ি হাসনাবাদ থানার অন্তর্গত আশারিয়া গ্রামে।
২০১৭ সালে কলসুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্ডালাটির বাসিন্দা গোবিন্দ আইচের সঙ্গে বিয়ে হয় সোনালিদেবীর। আইচ দম্পতির চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় বাবা- হারা সোনালিকে দাদা পণের টাকা সহ সোনার অলঙ্কার দিয়েছিলেন বোনকে।
এ দিকে, গৃহবধূ আর একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। আর এরপর থেকে তাঁর উপরে অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার তাঁকে মারতে মারতে ঢালাই রাস্তার উপর দিয়ে টেনে হিচড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী। হাত-পা কেটে রক্তাক্ত হয়েছে তাঁর। শ্বশুরবাড়ি অন্যান্য সদস্যরাও তাঁর উপরে অত্যাচার করে। এমনটাই অভিযোগ। নির্যাতিতা মহিলা বলেন, ‘মেয়ে হয়েছে বলে বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আয়। সব সময় মদ-গাঁজা খেত আমার স্বামী। তারপর বাড়ি ফিরে মারধর করত। বলত দশবার করে উঠোন ঝাড় দিতে। যদি না দিই তখনও মারধর করত। এরপর কালকে রাস্তা দিয়ে মারতে-মারতে নিয়ে গিয়েছিল আমায়। হাত-পা কেটে গিয়েছে।’
এই অবস্থায় তিন মাসের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ। কথায় বলে কন্যা সন্তান বাবা-মার জন্য আশীর্বাদ। আর সেখানে কন্যা সন্তান হওয়ায় আধুনিক সভ্যতায় নির্মমভাবে মাকে অত্যাচারিত হতে হয়েছে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।