DM Bunglow: জেলাশাসকের বাংলো ‘ক্রোক’ করার নির্দেশ আদালতের

DM: ক্রোক প্রক্রিয়া কার্যকর করতে কতজন পুলিশ প্রয়োজন নাজিরকে সেই রিপোর্টও আদালতকে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এ নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে নাজিরকে। এমনকী এই বাংলোর বাজারদর দেখা হবে। বাংলো নিলাম করে জমির মূল্য বাবদ আদালত নির্ধারিত টাকা মেটানো সম্ভব কি না তাও জানাতে হবে আদালতকে।

DM Bunglow: জেলাশাসকের বাংলো ক্রোক করার নির্দেশ আদালতের
জেলাশাসকের বাংলো ক্রোক করার নির্দেশ। Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সায়নী জোয়ারদার

May 17, 2024 | 10:35 PM

পূর্ব মেদিনীপুর: জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সেই জমির দাম মেটানো হয়নি বলে মামলা হয়। সেই মামলায় পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের বাংলো ক্রোক করার নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার বর্ধমানের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক বিশ্বরূপ শেঠ এই নির্দেশ দেন। বর্ধমান শহরের সাধনপুর এলাকায় বাগান, ফাঁকা জমি ও ভবন-সহ গোটা বাংলো ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশ কার্যকর করতে জেলা আদালতের নাজির বা করণিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন নির্দেশ ঘিরে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ক্রোক প্রক্রিয়া কার্যকর করতে কতজন পুলিশ প্রয়োজন নাজিরকে সেই রিপোর্টও আদালতকে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এ নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে নাজিরকে। এমনকী এই বাংলোর বাজারদর দেখা হবে। বাংলো নিলাম করে জমির মূল্য বাবদ আদালত নির্ধারিত টাকা মেটানো সম্ভব কি না তাও জানাতে হবে আদালতকে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক ফোর-লেন করার জন্য ২০০৩ সালে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। পশ্চিম বর্ধমানের কাঠপুকুর মৌজায় সুশান্ত কুমার গোস্বামীর ০.৪১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমির দাম ২৬ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৪০ টাকা ঠিক হয়। অভিযোগ, জমির মালিক সে টাকা পাননি। এ নিয়ে প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়লেও তেমন লাভ হয়নি।

২০১৩ সালে বর্ধমান আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই সময়ই আদালত নির্দেশ দিয়েছিল জমির মূল্য বাবদ টাকা মেটাতে হবে। তবে কোর্টের নির্দেশের পরও জমির মালিক জমির টাকা পাননি। ২০১৫ সালে আবারও আদালতে যান জমির মালিক। সেই থেকে বর্ধমানের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে চলছিল এই মামলা।

যদিও এখন জমির মূল যিনি মালিক ছিলেন তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তবে তাঁর তিন ওয়ারিশ মিতালি গোস্বামী, পার্থসারথি গোস্বামী ও সিদ্ধার্থ গোস্বামী মামলা চালিয়ে যান। গত ১২ এপ্রিল আদালত জমির মূল্য বাবদ মালিককে ১ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৭৯০ টাকা ১৭ মে-এর মধ্যে মেটাতে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশও বাস্তবায়িত হয়নি।

সরকারের তরফে এদিন গভর্নমেন্ট প্লিডার বা জিপি ১২ এপ্রিলের নির্দেশে বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার জন্য আরও ২ মাস সময় চান। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করেন। সিদ্ধার্থ গোস্বামী যিনি মামলাকারীর ওয়ারিশ, তিনি নিজেই এই মামলার আইনজীবী।

এদিন উভয়পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ধরে এই মামলা ঝুলে আছে। তাই আর কোনও সময় দিতে নারাজ তারা। সরকার পক্ষের আবেদন খারিজ করে এরপরই ৩.০৪ একর জমির উপর তৈরি জেলা শাসকের বাংলো ক্রোক করার নির্দেশ দেন বিচারক।

আইনজীবী তথা মামলাকারীর তরফে সিদ্ধার্থ গোস্বামী বলেন, জমির দাম মেটানোর নির্দেশ আদালত অনেক আগেই দিয়েছিল। কিন্তু সরকার তা মেটায়নি। তাঁর কথায়, “আমি আইনটা জানি বলে রায় কার্যকরের জন্য লড়াইটা করতে পারলাম। বোঝাই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী হয়।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us