Hilsa Fish: পর্যাপ্ত ইলিশ না পেয়ে হতাশ দিঘার মৎস্যজীবীরা! বৃষ্টির অভাবেই কি এই পরিণতি

TV9 Bangla Digital | Edited By: অংশুমান গোস্বামী

Jul 08, 2022 | 5:02 PM

Digha Fishermen: প্রাকৃতিক কারণ ও সেই সঙ্গে বেড়েছে ট্রলারের খরচ। দাম বেড়েছে ট্রলারের জ্বালানির। কিন্তু ইলিশ না ওঠায় ক্ষতির আশঙ্কা করছে ট্রলার মালিক থেকে মৎস্যজীবীরা।

Hilsa Fish: পর্যাপ্ত ইলিশ না পেয়ে হতাশ দিঘার মৎস্যজীবীরা! বৃষ্টির অভাবেই কি এই পরিণতি
দিঘা জোগান কমেছে ইলিশ মাছের

Follow Us

দিঘা: ভরা মরশুমে ইলিশ ধরতে বেরিয়েছিল মৎস্যজীবীদের ট্রলার। কিন্তু সমুদ্রে দেখা নেই পর্যাপ্ত ইলিশের। এক রকম খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে মৎস্যজীবীদের। মরশুমের শুরু থেকেই ইলিশ জোগানে ভাটা পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিঘার মৎস্যজীবী ও ট্রলার-লঞ্চ মালিকরা। গত কয়েক বছর ধরেই দিঘায় ইলিশের জোগান কমছে। এ বছর ইলিশের জোগান প্রায় নেই বললেই চলে। মরশুমের শুরুতে গত বছরের তুলনায় দিঘায় এ বছর ইলিশ উঠেছে অনেক কম। যা উঠেছে তা আবার আকারে অনেকটাই ছোট। যদিও বাজারে ইলিশের চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা অনুসারে ইলিশ সরবরাহ করতে পারছে না দিঘা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নদী, খাল, বিল ও সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার বিস্তৃত উপকূল। এর জন্য পূর্ব মেদিনীপুরে সারা বছর সামুদ্রিক মাছের জোগান মেলে। মাছ ধরা থেকে মাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এ জেলার বহু মানুষ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় দু’হাজার মৎস্যজীবীর ট্রলার, লঞ্চ ইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে গিয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ছে না পর্যাপ্ত ইলিশ। এতেই হতাশ ট্রলার মালিক থেকে মৎস্যজীবীরা। মরশুমের শুরুতে জালে কিছু ইলিশ উঠলেও সময় যতই এগিয়েছে ততই আশাভঙ্গ হয়েছেন মৎসজীবীরা। জালে পর্যাপ্ত ইলিশ না ওঠায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। মরশুমের শুরুতে ইলিশ পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন মৎসজীবীরা। ইলিশ বেশি ধরা পড়লে আগামী কয়েক মাসে হাতে টাকা আসতো অনেক বেশি।

প্রাকৃতিক কারণ ও সেই সঙ্গে বেড়েছে ট্রলারের খরচ। দাম বেড়েছে ট্রলারের জ্বালানির। কিন্তু ইলিশ না ওঠায় ক্ষতির আশঙ্কা করছে ট্রলার মালিক থেকে মৎস্যজীবীরা। দিঘা মোহনার এক ট্রলার মালিক বলেছেন, “সারা বছর ইলিশের আশায় বসে থাকি। দিন দিন সমুদ্রের ট্রলার পাঠনোর খরচ বাড়ছে। কিন্তু ইলিশ মাছ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। খরচই উঠে আসছে না।“ যদিও মৎস্যজীবীরা আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূল হলেই জালে উঠবে ইলিশ। মৎস্যজীবীদের কথায়, “পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে, গভীর সমুদ্রে ইলিশের ঝাঁক দেখা যাবে না।“ বর্ষা এলেও দক্ষিণবঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির ঘাটতি। নিম্নচাপের ঝিরঝিরে বৃষ্টি ও হাওয়ায় ইলিশের ঝাঁক জালে ধরা পড়ে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এখনও সেভাবে দেখা মেলেনি রুপোলি শস্যের। যদিও আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদল হলে ফের সুসময় আসবে বলে মনে করেছেন ট্রলার মালিক থেকে মৎস্যজীবীরা।

এ বিষয়ে দীঘা মোহনা ফেস ট্রেডার্স ও ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালন কমিটির সদস্য নবকুমার পইড়া বলেছেন, “গত বছর মরশুমের প্রথমে প্রায় ১০ টন ইলিশ মাছ পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ টনের কাছে। বাজারে ইলিশের টান থাকলেও আবহাওয়ার বদল কবে হবে সেই আশায় বুক বাঁধছে মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকেরা।”

Next Article