গরুর গলায় ‘মাদুলি’ ঝুলিয়ে বাড়ি পাঠাতে চায় শিলিগুড়ি পুলিস

রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে গরুদের এহেন উৎপাতে নাজেহাল হচ্ছেন পথচারীরা। তারা বড় রাস্তায় উঠে আসার ফলে যান চলাচলে সমস্যা তো হচ্ছেই, পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকছে।

গরুর গলায় 'মাদুলি' ঝুলিয়ে বাড়ি পাঠাতে চায় শিলিগুড়ি পুলিস
গরুর গলায় 'মাদুলি' ঝুলিয়ে বাড়ি পাঠাতে চায় শিলিগুড়ি পুলিস

শিলিগুড়ি: গরু, আপাত নিরীহ এই গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণী বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনীতির কুশীলব হয়ে উঠেছে। এবার সেই গরুকেই ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে শিলিগুড়ি পুলিস। না না, এ কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়। নেহাতই যানজট সংক্রান্ত সমস্যাজনিত ট্র্যাফিক বাধ্যবাধকতার ফল।

তাদের বিচরণভূমি অবাধ। লোকালয় থেকে শুরু করে ব্যস্ত রাস্তা, যে কোনও সময় দুলকি চালে তাদের আবির্ভাব হতে পারে। এসে রাস্তার মাঝে নিজের মতো গা এলিয়ে শুয়েও পড়েন তারা। যদিও রাজনৈতিক সমাজে তাদের সম্মান ইদানীং বেশ কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। পাছে তারা বা তাদের মালিক যদি ‘অপমানিত’ হন! সেই আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হলেও কিছু বলা যায় না। যেমনটা শুরু হয়েছে শিলিগুড়ি শহরে। রাস্তাঘাটে তাদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়ে গিয়েছে, যে দুষ্কৃতী ছেড়ে এখন গরুর পিছনে ছুটতে হচ্ছে পুলিসকে।

গৃহস্থের অবলা জীবের মেজাজ নিয়ে পথ দাপিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য কলকাতা ছেড়ে একটু বাইরে বের হলেই সবার চোখে পড়ে। এর প্রধান কারণ হল, সকাল হলেই পোষা গরুকে ছেড়ে দেন তাদের অভিভাবকরা। দিনের শেষে দুলতে দুলতে তারাও ঠিক ঘরে ফিরে আসে। ব্যতিক্রম নয় শিলিগুড়িও। কিন্তু কলকাতার পর রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে গরুদের এহেন উৎপাতে নাজেহাল হচ্ছেন পথচারীরা। তারা বড় রাস্তায় উঠে আসার ফলে যান চলাচলে সমস্যা তো হচ্ছেই, পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকছে।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপিতে আসুন, সম্মান দেব’, শিশিরকে আহ্বান দিলীপের

কিন্তু প্রত্যেকটি গরুর পিছু নিয়ে তাদের মালিককে খুঁজে বের করাও সম্ভব নয়। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে পুলিসকে। বুধবার সকাল থেকে শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানা সংলগ্ন এলাকায় গরুর দলকে খুঁজে খুঁজে তাদের গলায় মাদুলি-স্বরূপ নোটিস ঝুলিয়েছে পুলিস। সেখানে মালিকদের উদ্দেশ্য করে লেখা রয়েছে, “আপনার গৃহপালিত পশু আপনার বাড়িতে রাখুন। গৃহপালিত পশু রাস্তায় ছেড়ে দেবেন না।” এতে কিছুটা কাজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যদি তা না হয়, এরপর গরুর মালিকদের খুঁজে শাস্তি দেওয়া হবে, দাবি পুলিসের।

আরও পড়ুন: কেঁদে-কেটে বৈঠক ছাড়লেন তৃণমূলের নেত্রী! কেন?