বারুইপুর: প্রথমে প্রলোভন, তারপর ছবি তুলে রেখে ব্ল্যাকমেইল! এভাবেই নাবালিকাকে দিনের পর ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ঘটনা ২০২১ সালে। সেই ঘটনাতেই অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারুইপুরের ফাস্টট্র্যাক সেশন কোর্ট। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরে বাংলায় নারী নির্যাতনের বাড়বাড়ন্ত শোরগেল ফেলেছে গোটা দেশেই। আরজি কর থেকে কুলতলি, একাধিক কেসে কখনও অভিযুক্তদের আমৃত্যু কারাবাস, কারও আবার ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত।
২০২১ সালে বারুইপুর থানা এলাকা থেকে এই খবর সামনে আসে। অভিযোগ, এলাকারই এক ব্যক্তি ওই নাবালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন। প্রথমে নানা জিনিসের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনতেন। তারপরই শুরু হত নারকীয় নির্যাতন। অভিযোগের শেষ এখানেই নয়। অভিযোগ, নির্যাতনের সময়ের ভিডিয়োও তুলে রাখত ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে ওই ভিডিয়ো দেখিয়েই চলতো ব্ল্য়াকমেইল। কাউকে কিছু বললেই ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো।
সেই ভয়েই শুরুতে নাবালিকা কাউকে কিছু বলেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। তারপর থেকেই চলঠছিল মামলা। সম্প্রতি দোষী সাব্যস্ত হয় অভিযুক্ত। মঙ্গলবার তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। আদালতের রায়ে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। নির্যাতিতার মা বলছেন, “আইন যা বলবে তাই আমরা মাথা পেতে নেব।”