UAE-US Trade Deal: পেট্রো-ডলার জমানার ইতি? এবার চিনের ইউয়ান দিয়েই তেল কিনবে UAE? আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি
Dollar vs Yuan: ডলারের বদলে সরাসরি চিনা মুদ্রায় তেল বিক্রির ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে বলে ট্রাম্পকে জানিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। যুদ্ধে এতদিন আমেরিকার পাশে থাকলেও, এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও চাপ তৈরি করতে শুরু করল।

দুবাই: ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ কবে থামবে, কেউ বলতে পারছে না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবার বেনজির সঙ্কটে পেট্রো-ডলার। যুদ্ধ চলতে থাকলে এবার ডলার ছেড়ে অন্য মুদ্রায় তেল বিক্রি ও অন্যান্য লেনদেন শুরু করবে বলে আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)।
জানা গিয়েছে, ডলারের বদলে সরাসরি চিনা মুদ্রায় তেল বিক্রির ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে বলে ট্রাম্পকে জানিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। যুদ্ধে এতদিন আমেরিকার পাশে থাকলেও, এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও চাপ তৈরি করতে শুরু করল। তারা সাফ জানিয়েছে, ইমার্জেন্সি ডলার সাপোর্ট দেওয়া হোক, নাহলে তারা লেনদেনের জন্য চিনা ইউয়ান ব্যবহার করতে শুরু করবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছে। যদি এই যুদ্ধ চলতে থাকে এবং ইরান আরও সঙ্কটে পড়ে, তাহলে বিকল্প মুদ্রার ব্যবস্থা তাদের রাখতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর খালেদ মহম্মদ বালামা ইতিমধ্যেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে মুদ্রা পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন গত সপ্তাহে। ডলারের সহজলভ্যতা কমে গেলে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তেল কেনাবেচা ও অন্য লেনদেনের জন্য ইউয়ান ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।
জানা গিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আটকে আছে। যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর আর্থিক বিপর্যয় মেটাতে ট্রাম্প সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতি পূরণেরও দাবি করেছে তারা। গত কয়েকদিন আগে চিনা ইউয়ানে ইরানের তেল কিনেছে ভারতের বেসরকারি সংস্থা।
প্রসঙ্গত, ডলার দিয়েই বিশ্ব বাজারে তেল কেনাবেচা হয়। ১৯৭০-র দশক থেকেই এই রীতি চলছে। সেই সময় তেলেক সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। তখন আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছিল যে সৌদি আরব ডলারে তেল কেনাবেচা করবে। তার বদলে আমেরিকা সুরক্ষা দেবে। অন্য কোনও দেশও ডলারের বদলে অন্য মুদ্রায় তেল কিনতে গেলে আপত্তি তুলেছে আমেরিকা। তবে যুদ্ধের জেরে অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে আমেরিকাকেই চাপে ফেলে দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ।
