২০১৮ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান খান। তবে, ৫ বছরের মেয়াদ পূর্তির আগেই চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পাক সংসদে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, এবং ভোটাভুটিতে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
পিপিপি, পিএমএল (এন)-সহ মোটামুটিভাবে পাকিস্তানের সমস্ত বিরোধী দলগুলি পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট নামে এক জোট গড়ে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বল শাসন, বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক বদলা নেওয়া এবং অর্থনীতি ও বিদেশি মুদ্রার চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। একই সময়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনও হারান ইমরান খান।
৮ মার্চ বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিরা ইমরান খানের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছিল। কিন্তু, ৩ এপ্রিল সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন পাক ডেপুটি স্পিকার, কাসিম খান সুরি। এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিল বিরোধীরা।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১০ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভোটাভুটি হয় পাক সংসদে। ৩৪২ আসনের পাক সংসদে ১৭৪টি ভোট পেয়ে পাস হয় অনাস্থা প্রস্তাব। ফলে, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ইমরান খান।
১১ এপ্রিল, পাক সংসদ শেহবাজ শরিফ খানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে। ১৯ এপ্রিল মোট ৩৭ জন সদস্য নিয়ে শপথ গ্রহণ করে শরিফ মন্ত্রিসভা।
যদিও এই পুরো বিষয়টির পিছনে আমেরিকার হাত রয়েছে বলে দাবি করেন ইমরান খান। তাঁর দাবি, ৭ মার্চই তিনি জানতে পেরেছিলেন, আমেরিকার পক্ষ থেকেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একমাত্র অনাস্থা প্রস্তাব এনে ইমরানকে সরিয়ে দিলেই পাকিস্তানকে ক্ষমা করা হবে বলে জানিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন দাবি করেন ইমরান। তবে, ইমরানের এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।