নয়া দিল্লি: যুব প্রজন্মের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্নিপথ প্রকল্প (Agnipath Scheme)। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর তিন বাহিনী মিলিয়ে অফিসার পদমর্যাদার নীচের পদে প্রায় ৪৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ সৈনিক নিয়োগ করা হবে। ছয় মাসের ব্যবধানে বছরে দুবার করে নিয়োগ করা হবে। এঁরা কাজ পাবেন চার বছরের অস্থায়ী ভিত্তিতে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) তরফে অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হল। ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে অগ্নিপথ প্রকল্পে চাকরি পাওয়ার জন্য আগে আবেদনকারীদের অনলাইন কমন এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে হবে। এরপরে ফিজিক্যাল ফিটনেস ও মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদপত্র অগ্নিপথ প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়ায় বদলের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও অফিসিয়াল নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগে অগ্নিপথ প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রথমে ফিজিক্যাল ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হত। এরপরে মেডিক্যাল টেস্ট দিতে হত। যে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হত, তাদের এরপরে কমন এন্ট্রাস পরীক্ষা দিতে হত। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য ফাইনাল মেরিট লিস্ট প্রকাশ করা হয় এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত।
তবে এবার সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই বদল আনা হচ্ছে। এবার থেকে প্রথমে ফিজিক্যাল টেস্টের বদলে কমন এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় যারা পাশ করবেন, তাদের ফিজিক্যাল ও মেডিক্যাল টেস্টের সুযোগ দেওয়া হবে। এর ভিত্তিতেই অগ্নিপথ প্রকল্পের জন্য যোগ্য প্রার্থী ‘অগ্নিবীর’দের বেছে নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, অগ্নিপথ প্রকল্পে নিয়োগের ক্ষেত্রে খরচ কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিজিক্যাল ও মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য যে বিপুল অর্থ ব্যয় হত, তা অনেকটাই কমে যাবে যদি আগে এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও চাপ অনেকটাই কমবে, কারণ একমাত্র সঠিক শিক্ষাগত যোগ্য়তার প্রার্থী, যারা এন্ট্রাস পরীক্ষায় পাশ করেছেন, তারাই ফিজিক্যাল ও মেডিক্যাল টেস্টে বসতে পারবেন। আগে লক্ষাধিক প্রার্থীর জন্য দেশজুড়ে ২০০-রও বেশি স্ক্রিনিং সেন্টার তৈরি করা হত, যার জন্য সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হত। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জন্য এপ্রিল মাসে অগ্নিপথ প্রকল্পের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।