পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গের একটি শিল্পাঞ্চলভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই কেন্দ্রটি দুর্গাপুর পৌরনিগমের ১ থেকে ১০ এবং ২৩ থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং কাঁকসা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের আমলাজোড়া, গোপালপুর ও মোলানদিঘি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি ‘দুর্গাপুর’ নামে পরিচিত ছিল, পরবর্তীতে এটি ‘দুর্গাপুর-২’ এবং সবশেষে ‘দুর্গাপুর পূর্ব’ নামে পরিচিতি পায়। সত্তরের দশক থেকে এটি বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে সিপিএম-এর তরুণ চট্টোপাধ্যায় এবং দিলীপ মজুমদার দীর্ঘ সময় বিধায়ক ছিলেন। তবে ২০০১ সালে প্রথমবার তৃণমূল কংগ্রেসের জয়যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সালে ডঃ নিখিল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হলেও ২০১৬ সালে সিপিএম-এর সন্তোষ দেবরায় আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় আসনটি নিজের দখলে আনে। ২০-২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ মজুমদার ৭৯,৩০৩টি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী পেয়েছিলেন ৭৫,৫৫৭টি ভোট। ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমান বিধায়ক এবং রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকেই এই কেন্দ্র থেকে পুনরায় প্রার্থী করেছে। শিল্পাঞ্চল হওয়ার কারণে এখানকার ভোটারদের কাছে কারখানার ভবিষ্যৎ, শ্রমিকদের স্বার্থ এবং আধুনিক নাগরিক পরিষেবাই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং এলাকার উন্নয়নই এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রধান শক্তি।