মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত সাগরদিঘি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সমগ্র সাগরদিঘি ব্লক এই বিধানসভা এলাকার আওতাভুক্ত। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি মূলত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দখলে ছিল। এরপর ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এটি বামফ্রন্টের (সিপিআই-এম) শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে সিপিআই(এম)-এর পরেশ নাথ দাস ও নৃসিংহ কুমার মণ্ডল বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সুব্রত সাহা এই আসনটি বামেদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন এবং ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার জয়লাভ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুব্রত সাহা ৯৫,১৮৯ ভোট (৫১.৪%) পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর অকাল প্রয়াণে এই আসনটি শূন্য হয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২,৯৮৬ ভোটে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন না পাওয়া কংগ্রেস ও বামেদের জন্য এটি ছিল বিশাল জয়। বায়রন বিশ্বাস মোট ভোটের ৪৭.৩৫% পেয়েছিলেন। তবে নাটকীয়ভাবে জয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বায়রন বিশ্বাস কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রটি একটি অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক কেন্দ্র। এলাকার সংখ্যালঘু ভোট এবং স্থানীয় বিড়ি শিল্প ও কৃষিকাজ এখানকার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। মুর্শিদাবাদ জেলার সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রে সাগরদিঘি কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।