১৯৯৮ সাল। সুরয বরজাতিয়ার ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলছিল রাজস্থানের যোধপুরে। সেই শুটিং চলাকালীন দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সলমন খানের (Salman Khan) বিরুদ্ধে। এই কেসে সলমন খানের নাম শুধু জড়ায়নি, তাঁর সঙ্গে সইফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, নীলম ও তাব্বু-র নামও জড়িয়ে ছিল। এই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ১৯৭২-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার মামলা সামনে আসার পর থেকেই আদালতে মামলা চলছিল টানা কুড়ি বছর ধরে। এই কয়েক বছরে শুনানির জন্য আদালতে বারবার ডাক পড়ে সলমন খানের। কোনও কোনও দিন তিনি হাজিরা দেন আবার কোনওদিন পরবর্তী হাজিরার তারিখের জন্য আবেদন করেন।
সেই কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার ঘটনার জন্য সলমন খানের এখন জীবন বিপন্ন। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই (Lawrence Bishnoi) জানিয়ে দিয়েছেন এর জন্য ক্ষমা করা হবে না বলে। সলমন এবং তাঁর বাবা সেলিম খানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। মুম্বই পুলিশ যখন তদন্তে নামেন তখন জেলে থাকা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে হুমকির জন্য দায়ী করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই সলমন খানের বিরুদ্ধে আরেকটি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন।
কী রয়েছে সেই বার্তায়? জানা গিয়েছে, ১০ জুলাই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই সতর্ক করেছেন যে তাঁর গোষ্ঠী এবং তিনি কৃষ্ণসার হত্যার ঘটনার জন্য সলমনকে কখনই ক্ষমা করবেন না। স্পেশাল সেল আরও যোগ করেছে যে সলমনকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার পরেই লরেন্স বিষ্ণোই তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন। সম্প্রতি সলমনের আইনজীবী হস্তিমল সারস্বত যোধপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করার কয়েকদিন পর এই খবর পাওয়া গিয়েছে যে তিনি একটি চিঠির মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। হুমকি চিঠিটি সলমনকে দেওয়া চিঠির মতোই ছিল। আইনজীবী সারস্বত জানিয়েছেন চিঠিতে লেখা ছিল “শত্রুর বন্ধু শত্রু। মুসওয়ালার মতো কিছু করবে।”
হুমকিদাতা সলমনের চিঠিতে ‘এলবি-জিবি’ লিখেছিলেন। অ্যাডভোকেটকে পাঠানো চিঠিতেও ‘এলবি-জিবি’ লেখা আছে। এলবি লরেন্স বিষ্ণোই এবং জিবিকে গোল্ডি ব্রার বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যদিকে সলমন তাঁর ভক্তদের নিরাশ করেছেন ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে বের না হয়ে। মুম্বইয়ে তাঁর বাসভবনে সল্লুভাইয়ের ভক্তরা ভিড় জমিয়েছিলেন। আসলে গত কয়েক মাস ধরে মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার কারণে অভিনেতা তাঁর বারান্দায় আসার সাহস দেখাননি।