
ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট (Omicron variant ) নিয়েই নাজেহাল দশা। তার মধ্য়েই বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থার (WHO) কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওমিক্রনই শেষ নয়। পরবর্তী পর্যায়ে যে রূপটি ( upcoming variants) ধেয়ে আসবে, তা ওমিক্রনের চেয়ে আরও বেশি সংক্রমণযোগ্য! শুধু তাই নয়, এখনও পর্য়ন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রামক (more transmissible) রূপে দেখা যাবে। তবে আসন্ন ভেরিয়েন্ট আদৌও প্রাণঘাতী হবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রি-ওমিক্রন হিসেবে ধারণা ছিল যে প্রতি ১০ জন কোভিড রোগীর মধ্যে একজন লং কোভিডে ভুগবেন। কিন্তু ওমিক্রনের পরে কোভিডের নয়া ভেরিয়েন্টটির চরিত্র কেমন, কতটা মারাত্মক তার কিছু আভাস হু দিয়েছে। হু-র কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল হেড মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জানিয়েছেন, ওমিক্রনের পরবর্তী রূপটি আরও বেশি সংক্রামক হবে, কারণ বর্তমানে যে হারে আক্রান্ত হচ্ছে, তাকে পর্যন্ত টপকে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল ভবিষ্যতের ভেরিয়েন্টগুলি কম-বেশি গুরুতর হবে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়।
অনেকে জানিয়েছিলেন যে, এই ভাইরাসটি হালকা স্ট্রেনে রূপান্তরিত হতে থাকবে। তবে কেরখোভ জানিয়েছেন, এই কথার কোনও গ্যারান্টি নেই। যে রূপেই হানা করুক না কেন, কোনও ভাইরাসের উপর আগাম কিছু বোঝা যায় না। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরবর্তী কোভিড ভেরিয়েন্টটি ভ্যাকসিন সুরক্ষাগুলি এড়াতে পারে, এমনকি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। ভ্যাকসিনগুলিকে আরও কম কার্যকর করে তুলতেও পারে।
গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে একটাই প্রশ্ন, কবে করোনা থেকে মিলবে মুক্তি! কবে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হবে। কবে আবার স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীরা স্বাভাবিক মেলামেশা, খেলা করতে পারবে, তা কেউই সঠিক জবাব পাচ্ছেন না। অনেকে আবার মনে করেন, ওমিক্রনের হাত ধরেই দেশে শেষের শুরুর চাকাটা ঘুরতে শুরু করেছে। তবে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, আতঙ্ক ও উদ্বগের দিন আদৌও ফুরিয়ে যায়নি। কারণ ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসের আরও ভোলবদলে মানুষ প্রায় দিশেহারা হতে পারে।
ওমিক্রনের প্রভাবে মৃত্যু কিংবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা কম ঘটলেও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাথ্য সংস্থাও জানিয়েছেন, বর্তমান টিকা করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে লড়তে পারবে না। তার জন্য প্রয়োজন নতুন টিকা। ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে এক নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছেন যার নাম IHU। নতুন এক করোনা স্ট্রেন। তার নাম ডেল্টাক্রন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ৪৬ বার মিউটেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যা ওমিক্রনের থেকেও বেশি। ফলে এর সংক্রামিত করার ক্ষমতা আরও বেশি। সব মিলিয়ে ওমিক্রনেই যে করোনা অধ্যায়ের শেষ এমন কোন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন: Indian Jujube: সরস্বতী পুজোর আগেই কুল খেয়ে ফেলেছেন? স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী, জানুন