Budaun: কাস্তে দিয়ে স্ত্রীর পেট চিড়ে স্বামী দেখলেন, গর্ভে ছেলে না মেয়ে?

Budaun man cut open wife's stomach: স্ত্রীর গর্ভে যে সন্তান বেড়ে উঠছে, সে কি ছেলে না মেয়ে? জানতে কাস্তে দিয়ে স্ত্রীর পেট চিড়ে দিয়েছিল স্বামী। তিন বছর আগের এই ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। সম্প্রতি তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত।

Budaun: কাস্তে দিয়ে স্ত্রীর পেট চিড়ে স্বামী দেখলেন, গর্ভে ছেলে না মেয়ে?
প্রতীকী ছবি
Follow Us:
| Updated on: May 24, 2024 | 7:30 PM

লখনউ: মনে-প্রাণে পুত্র সন্তান চেয়েছিলেন পান্না লাল। কিন্তু, পর-পর পাঁচবার কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী অনিতা। যার জেরে অনিতাকে কম অত্যাচার সহ্য করতে হয়নি। বছর তিনেক আগে, তিনি আরও একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন। স্ত্রী কি আরও একবার মেয়ে শিশুর জন্ম দেবে? শঙ্কা জেগেছিল পান্না লালের মনে। আর তাতেই নিষ্ঠুরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অনিতা যখন আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা, সেই সময় তাঁর পেট কেটে ফেলেছিলেন পান্না লাল। দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁর গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান, ছেলে না মেয়ে। তিন বছর আগের এই বীভৎস ঘটনার জেরে, সম্প্রতি পান্না লালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি, উত্তর প্রদেশের বদাউঁ জেলার। অনিতার ভাই রবি সিং জানিয়েছেন, ২৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল পান্না লাল ও অনিতার। দুজনের পরপর ৫ মেয়ে হয়েছিল। ছেলে সন্তান চেয়ে উতলা হয়ে পড়েছিল পান্নালাল। আর তার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামেরই এক জ্যোতিষি। রবি জানিয়েছেন, তাঁর বোন ষষ্ঠবার গর্ভবতী হওয়ার পর, তিনি পান্নাকে নিয়ে ওই জ্যোতিষির কাছে গিয়েছিলেন। জ্যোতিষি জানিয়েছিল, এবারও পান্না ও অনিতার এক কন্যা সন্তানই হবে।

জ্য়োতিষির ওই কথা শুনেই খেপে গিয়েছিলেন পান্না। অনিতার গর্ভে সত্যিই ফের কোনও মেয়ে আছে, না ছেলে আছে, তা দেখতে চেয়েছিল সে। ২০২০-র ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়, বাড়ি ফিরেই একটি কাস্তে দিয়ে অনিতার পেট চিড়ে ফেলেছিল পান্না লাল। এরপর, অনিতাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে, অনিতার গর্ভে আট মাস ধরে বেড়ে ওঠা শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। আর ভাগ্যের এমনই নিষ্ঠুর পরিহাস, অনিতার গর্ভে থাকা ওই শিশুটি ছিল একটি ছেলে সন্তান।

অর্থাৎ, যে ছেলের চাহিদায় এই ভয়ানক অপরাধ করেছিল পান্না লাল, তাকেই খুন করেছে সে। এই অপরাধে এখন তাকে বাকি জীবন জেলেই কাটাতে হবে। আদালত তার অপরাধকে জঘন্য অপরাধ বলেছে।