
নয়া দিল্লি: হাইভোল্টেজ রবিবার। বিহারে রাতারাতি উল্টে গেল সরকার। মুখ্য়মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার। ভেঙে দিলেন মহাগঠবন্ধনের সরকার। আজই এনডিএ-তে যোগ দেবেন তিনি। বিকেলেই ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করতে পারেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমার ইস্তফা দেওয়ার পরই তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সভাপতি তথা ইন্ডিয়া জোটের চেয়ারপার্সন মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “আমি জানতাম এটা হবে। আমাদের দেশে এরকম আয়ারাম-গয়ারামের মতো অনেক লোক রয়েছে।”
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, “আগে আমরা একসঙ্গে লড়ছিলাম। যখন আমি লালুজি ও তেজস্বীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তখন ওঁরাও বলেছিলেন যে নীতীশ জোট ছেড়ে যাচ্ছে। যদি ওঁর থাকার হত, তাহলে থাকতেন কিন্তু উনি যেতে চেয়েছেন। সেই কারণেই আমরা আগে থেকে জানতাম। ইন্ডিয়া জোটকে অটুট রাখতে, আমরা যদি কিছু ভুল কথা বলতাম, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছত। নীতীশের জোট ছাড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন লালু প্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব। আজ সেটা সত্যি হল। দেশে আয়ারাম, গয়ারামের মতো অনেকে রয়েছেন।”
কংগ্রেস নেতা তারিক আনওয়ার নীতীশ কুমারকে কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “একজনকে বিয়ে আর অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো-এটা নীতীশ কুমারের অভ্য়াসে পরিণত হয়েছে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।”
অন্যদিকে, নীতীশের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিং। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য নীতীশ কুমারকে ধন্যবাদ জানাই। নীতীশ কুমারের বাধ্যবাধকতাই হোক বা অন্য কিছু, বিগত দেড় বছরে বিহারে যে দ্বিতীয় দফায় জঙ্গলরাজ শুরু হয়েছিল, তাতে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। যদি তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতেন, তবে পরিস্থিতি আরও কঠিন হত…আমার শুধু একটা বিষয় নিয়েই চিন্তা ছিল, লালু যাদব যেভাবে তেজস্বীকে গদিতে বসাতে নীতীশের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন, তাতে বিহারে আবার জঙ্গলরাজ শুরু হত। এই চাপ থেকে মুক্ত হল বিহার। বিজেপি বিহারে জঙ্গলরাজ চলতে দেবে না।”
বিহারের বিজেপি সভাপতি সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, “বিহারের অবস্থাও পশ্চিমবঙ্গের মতো হয়ে যেত। জনগণের স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সাল অবধি জঙ্গলরাজ চলেছিল, সেই পরিস্থিতি যাতে আবার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফে আমি প্রধানমন্ত্রী মোদী ও জেপি নাড্ডাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”