
নয়া দিল্লি: ধেয়ে আসছে অশনি। আগামিকাল, সোমবারই আন্দামান উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে চলতি বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও লাগোয়া দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপরে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে উত্তরপূর্ব দিকে সরতে শুরু করেছে। আজ, ২০ মার্চ থেকেই নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হতে থাকবে। আগামিকাল সকালেই তা ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করবে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্দামান সাগরের উপর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপটি। শক্তি বাড়িয়ে আগামী ২২ মার্চ উত্তর মায়ানমার ও বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্ব অংশে তা পৌঁছে যাবে। এই নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ থেকেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবথেকে বেশি হবে।
মৌসম ভবনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “সাধারণত মার্চ মাসে কোনও ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। মূলত এপ্রিল বা মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। মার্চ মাসে সমুদ্র শান্তই থাকে। তবে এবার বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের উপরে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও চিন্তার বিশেষ কারণ নেই, ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার আগেই তা শক্তি হারাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার সময় আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের খুব কাছে অবস্থান করায়, ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে নেমে পড়েছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরে উপকূলরক্ষী বাহিনী জাহাজে করে টহল দিচ্ছে। সতর্ক করা হয়েছে মৎসজীবীদের। আপাতত ৩-৪দিন মৎসজীবীদের বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ১৯ থেকে ২২ মার্চ অবধি সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বর্তমানে আন্দামানে রয়েছেন, তাদেরও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় হোটেল ছেড়ে বেরতে মানা করা হয়েছে। প্রয়োজনে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।