Explained on Rajya Sabha By-Election: বাংলায় আবার ভোট! সংসদের হিসাবটাই ওলট-পালট হয়ে যাবে তৃণমূলের দৌলতে?
TMC-BJP Fight in Rajya Sabha By-Election: বিধানসভায় যে আসন সংখ্যা রয়েছে তৃণমূলের, তাতে একটি আসনে জেতার সম্ভাবনা ছিল। কারণ একজন প্রার্থীকে জিততে অন্তত ৭০টি ভোট পেতে হবে। তৃণমূলের মোট বিধায়কের সংখ্যা ৮০। কিন্তু তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় আদৌ কোনও শিবির জিততে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

বাংলায় ফের ভোট। এবার লোকসভা বা বিধানসভার নির্বাচন নয়, এবার রাজ্যসভার নির্বাচন হবে। তিন আসনে উপ-নির্বাচনের ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই তিন আসনই তৃণমূলের সাংসদদের ছেড়ে যাওয়া আসন। তবে আর কি সেই আসন ধরে রাখতে পারবে তারা? নাকি বিজেপির ঝুলিতেই চলে যাবে এই আসনগুলি? রাজ্যসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়লে, কেন্দ্রের বিশেষ সুবিধা হবে সংসদে বিল পাশ করতে।
রাজ্যসভার নির্বাচন-
আগামী ২৪ জুলাই এই নির্বাচন হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হবে ১৫ জুলাই। মনোনয়ন প্রত্য়াহারের শেষ দিন ১৭ জুলাই। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচনের গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার আসনসংখ্যা ১৬। দু’বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। চলতি বছরই বিধানসভা নির্বাচনের মাসখানেক আগেই রাজ্যের পাঁচ রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। চারটি আসনে জেতার মতো সংখ্যা ছিল তৃণমূলের হাতে। বিজেপির হাতে একটি আসন জেতার মতো বিধায়ক ছিল। সেই মতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন পাঁচ জন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?
এবার প্রশ্ন হল, এই উপ-নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ এই নির্বাচনে সংসদের হিসাব-নিকাশটাই ওলট-পালট হয়ে যাবে। এর নেপথ্যেও রয়েছে বিশেষ কারণ। গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। তারপর বয়ে গিয়েছে অনেক জল। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন প্রাক্তন হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তারপরই নজির বিহীন ভাঙন দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়া দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে। একদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে দূরে সরে, এনসিপিআই নামক একটি দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। তারা সমর্থন করবেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরকে। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভাতেও ভাঙন ধরেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক দলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তারা আলাদা ফ্রন্ট গড়ে এখন নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলেই দাবি করছে।
এই আবহে রাজ্যসভার নির্বাচনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে তিনটি আসন ফাঁকা হয়েছে, সেগুলি হল তৃণমূলের সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের আসন। ৮ জুন প্রথম ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায়। ১০ জুন ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব। ১১ জুন ইস্তফা দেন প্রকাশ চিক বরাইক। এই আসনগুলির মেয়াদ ছিল অনেকদিন। যেমন সুস্মিতা দেবের সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছিল ২০৩০ সালে।
আসনের হিসাব-
এবার আসা যাক, আসনের সমীকরণে। রাজ্য বিধানসভায় বর্তমানে যা আসন রয়েছে শাসক-বিরোধী দলের, তাতে তিনটি আসনেই বিজেপির মনোনীত প্রার্থী জেতার সম্ভাবনা। বিধানসভায় বিজেপির কাছে ২০৮টি আসন রয়েছে। তৃণমূলের ৮০টি আসন।
কে জিতবে?
রাজ্যসভার উপনির্বাচনে যদি বিজেপি তিন জন প্রার্থী দেয়, তবে তিনজনেরই জেতার সম্ভাবনা প্রবল। উল্টে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রস ভোটিং হলে, বিজেপির ঝুলিতে ভোট আরও বাড়বে। বিজেপির অন্দরে কানাঘুষো চলছে, বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন সদ্য তৃণমূলত্যাগী দুই প্রাক্তন সাংসদই। যদিও এ নিয়ে মুখ খোলেননি কেউই। পদত্যাগের পর টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জল্পনা জিইয়ে রেখেছিলেন দু’জনই।
অন্যদিকে, প্রার্থী দেওয়া নিয়ে প্রবল চাপে তৃণমূল কংগ্রেস। একে তো দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে দল। তারপর একটি আসনে জিততেও যে সংখ্যক ভোটের প্রয়োজন, তা জোগাড় করতে কালঘাম ছুটবে। তৃণমূল কংগ্রেস কার, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধ চলছে মমতা বনাম ঋতব্রত-র। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদনের পর তাদের দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দেবে নির্বাচন কমিশন। তার বদলে তাদের আপাতত একটি করে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দেবে নির্বাচন কমিশন।
প্রার্থী দেবে তৃণমূল?
এখনও পর্যন্ত মমতা পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভায় প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত পন্থীরাও জানিয়েছে যে রাজ্যসভার উপ-নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেবে কি না, তা ভাবনাচিন্তার স্তরে রয়েছে। মমতা পন্থী তৃণমূলের কাছে এটা অস্তিত্বের লড়াই। এদিকে, ঋতব্রত পন্থীরাও ছেড়ে কথা বলবে না, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বিধানসভায় যে আসন সংখ্যা রয়েছে তৃণমূলের, তাতে একটি আসনে জেতার সম্ভাবনা ছিল। কারণ একজন প্রার্থীকে জিততে অন্তত ৭০টি ভোট পেতে হবে। তৃণমূলের মোট বিধায়কের সংখ্যা ৮০। কিন্তু তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় আদৌ কোনও শিবির জিততে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বিজেপি জিতলে কী লাভ?
এই তিন আসনে বিজেপি জিতলে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদে বিশেষ সুবিধা হবে। সংসদের রাজ্যসভায় মোট আসন ২৪১। এর মধ্যে এনডিএ-এর সাংসদ রয়েছেন ১৫২ জন। এই উপনির্বাচনে যদি বিজেপি তিন আসন থেকেই জয়ী হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আসন সংখ্যা বাড়বে। সংসদে কোনও বিল পাশ করাতে আরও সুবিধা হবে।
গত এপ্রিল মাসেই কেন্দ্রীয় সরকার তিনদিনের বিশেষ অধিবেশন রেখেছিল। সেই সময় সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনী বিল আনা হয়েছিল, যার মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিনেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল অন্তর্গত ছিল। ওই বিল পাশ করাতে ৫২৮ জনের মধ্যে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষে ভোট পড়েছিল ২৯৮টি।
বাদল অধিবেশনেই হিসাব বদলে যাবে?
আগামী ২০ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনে বেশ কিছু পরিবর্তন করে আবার নতুন করে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে পারে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে তাদের বিল পাশ করানোয় আরও এক ধাপ এগোতে পারবে নতুন সমীকরণে। এখন এনডিএ-র সমর্থনে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে বেরিয়ে আসা ৬ জন সাংসদও একনাথ শিন্ডের শিবসেনাতে যোগ দিয়েছেন। তারাও এনডিএ-কে সমর্থন করবে। সেই হিসাবে এনডিএ-র পক্ষে ৩২৪ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোট থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদও যদি এনডিএ-র পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে এনডিএ-র ভোট ৩৪৬ হবে। যদি আকালি দল বা এআইএডিএমকে-র মতো অন্যান্য দলও সমর্থন করে, তাহলে বিল পাশ করাতে ৩৫২টি ভোট পাওয়া খুব কঠিন হবে না।
রাজ্যসভাতেও যে কোনও বিল পাশ করানোর জন্য যে ১৬৪ জনের সমর্থনের প্রয়োজন। সেদিকে অনেকটা এগিয়ে যাবে এনডিএ।
