
নয়া দিল্লি: এখনও পর্যন্ত বিশ্বের সবথেকে বড় তেল আমদানীকারক ভারত। জ্বালানি চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি আসে বাইরে থেকেই। কিন্তু এবার, জ্বালানি ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভরতার দিকে দৌড় লাগাল ভারত। বঙ্গোপসাগরের কৃষ্ণা গোদাবরী ডিপ-ওয়াটার ব্লক ৯৮/২ থেকে উঠে এল কালো সোনা, অর্থাৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। সোমবার রাতে এই খবর জানান কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তিনি জানিয়েছেন, রবিবার কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকার কাকিনাড়া উপকূল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এই তেল উত্তোলন করা হয়। এই প্রথম এই প্রকল্প থেকে তেল উঠল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, এই ঘটনা মোদী সরকারের আত্মনির্ভর ভারত প্রচারকে দারুণ উত্সাহ দেবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই জায়গা থেকে প্রতিদিন ৪৫,০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসও উৎপাদিত হবে। এর ফলে, বর্তমানে ভারতে যত তেল উৎপাদন হয় তার ৭% এই প্রকল্প থেকে আসবে। মোট গ্যাস উৎপাদনেরও ৭ শতাংশ আসবে এই প্রকল্প থেকে। ২০১৬-১৭ সালেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে, মাঝে কোভিড মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। এই প্রকল্পে মোট ২৬টি কূপ থেকে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস তোলা হবে। হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, এই ২৬টি কূপের মধ্যে ৪টি থেকে তেল তোলার কাজ ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে।
অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন বা ওএনজিসি জানিয়েছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষ। তৃতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ তেল ও গ্যাস উত্তোলনের দিকে নজর দেওয়া হবে। তার কাজও ইতিমধ্যেই চলছে। চলতি বছরের জুনেই সেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওএনজিসি আরও জানিয়েছে, ৯৮/২ প্রকল্পটি পুরোপুরি কাজ করা শুরু করে দিলে, তাদের তেল ও গ্যাসের উৎপাদন যথাক্রমে ১১ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ করে বাড়বে।
জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্যকে ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্সে করা এক পোস্টে তিনি লিখেছেন: “এটি ভারতের শক্তি যাত্রায় এক অসাধারণ পদক্ষেপ এবং আত্মনির্ভর ভারত গঠনের লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে দেবে। এর ফলে আমাদের অর্থনীতিও পুষ্ট হবে।”