নয়া দিল্লি: কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্র থেকে এইবারই প্রথম সাংসদ হওয়া, কঙ্গনা রানাওয়াত। বলিউডের প্রাক্তন অভিনেত্রীর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী মদ্যপ অবস্থায় লোকসভায় আসছেন। অথবা তিনি মাদক গ্রহণ করেও থাকতে পারেন। তাই সংসদে প্রবেশের সময় রাহুল গান্ধীর মাদক পরীক্ষা করার দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ। প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনা করতে গিয়ে, মহাভারতের ‘চক্রব্যূহ’-র রূপক ব্যবহার করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল। লোকসভায় দেওয়া তাঁর এই বক্তৃতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে, বুধবার (৩১ জুলই) এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন কঙ্গনা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কঙ্গনা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হন। গোটা দেশ প্রধানমন্ত্রীকে বেছে নিয়েছে। তাহলে কি তিনি (রাহুল গান্ধী) গণতন্ত্রকে সম্মান করেন না? প্রধানমন্ত্রী কি তাঁদের লিঙ্গ, বয়সের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন? সামাজিক মর্যাদা বা জাত নিয়ে এমন মন্তব্য করে তিনি প্রতিনিয়ত সংবিধানকে আঘাত করছেন। আগামীকাল হয়তো তিনি বলবেন, চামড়ার রঙ দিয়ে নির্বাচন করতে হবে প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কি গণতন্ত্রের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই? গতকালও তিনি সেখানে (সংসদে) একটি কমেডি শো করেছেন। কোথায় থামতে হয় তিনি জানেন না। তিনি সেখানে (লোকসভায়) গিয়ে বলেছিলেন, আমরা শিবজির বরযাত্রী এবং তারা (বিজেপি) চক্রব্যূহ। তাই আমার মতে, তিনি কোনও মাদক সেবন করছেন কিনা, পরীক্ষা করা উচিত।”
কঙ্গনা আরও বলেন, তিনি লোকসভার একজন নতুন সদস্য। কিন্তু, যে অবস্থায় রাহুল গান্ধী সংসদে আসেন এবং যে ধরনের কথা বলেন, তাতে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি শিবের বরযাত্রী আর চক্রব্যূহর কথা বলে, তাহলে কি আপনাদেরও মনে হবে না যে, ওই ব্যক্তির মাদক পরীক্ষা করা উচিত। আমি মনে হয়, তিনি মাদকাসক্ত হয়ে সংসদে আসেন। আমার মতে, এটি ভাল জিনিস নয়।” তাহলে কি কঙ্গনা সরাসরি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ করছেন? কঙ্গনা বলেছেন, “শিবজির বরযাত্রী এবং চক্রব্যূহর মতো কথা যে বলে, আপনাদের কি মনে হয় সে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে? আমার তা মনে হয় না।”
প্রসঙ্গত, বাজেট প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী মহাভারতের চক্রব্যূহর কথা বলেছিলেন। কাহিনী অনুসারে, অর্জুনের ছেলে অভিমন্যুকে ‘চক্রব্যূহ’ রচনা করে হত্যা করা হয়েছিল। ‘চক্রব্যূহ’ হল একটি বহু-স্তর বিশিষ্ট সামরিক গঠন। এটি একটি পদ্ম-আকৃতির গোলকধাঁধা সদৃশ সামরি গঠন, যা কোনও নির্দিষ্ট যোদ্ধাকে আটকে রাখতে পারে। পদ্ম বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক। মহাভারতের মতোই একের পর এক চক্রব্যূহ রচনা করে ভারতবাসীকে বন্দি করছে বিজেপি, এই অভিযোগ করেছিলেন রাহুল। মহাভারতের অভিনমন্যুর সঙ্গে যা ঘটেছিল, মোদী সরকারের আমলে সেটাই ঘটছে ভারতের যুব, মহিলা, কৃষক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে, বলে অভিযোহ করেন তিনি। অপরদিকে, কংগ্রেস তথা ইন্ডিয়া জোটের তুলনা করেছিলেন শিবের বরযাত্রীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, শিবের বরযাত্রীতে যেমন যে কেউ অংশ নিতে পারত, সেই রকমই অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজেপি সরকারের তৈরি ‘চক্রব্যূহ’গুলি ভেঙে দেবে ইন্ডিয়া জোট।